আগরতলা, ৫ এপ্রিল: এডিসি নির্বাচনের জন্য কোনো কেন্দ্রীয় দল সংকল্প পত্র প্রকাশ করে ইতিহাস রচনা করল। এই সংকল্প পত্র শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির জন্যে তৈরি হয়নি, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ। বিজেপি সত্যিকারের অর্থে এডিসির উন্নয়ন, জনজাতিদের উন্নয়ন চায়। আজ খুমলুঙ – এ এডিসি নির্বাচনের জন্য বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশের অনুষ্ঠানে একথা বলেন
মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এডিসি এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যার্থে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে যাচ্ছে। ত্রিপুরার প্রত্যন্ত এলাকা যেমন জম্পুই, ব্রু জনজাতিদের বসতি এলাকার উন্নয়নের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছেছে। তিনি মন কি বাত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলি তুলে ধরেছেন। বিজেপি আক্ষরিক অর্থে জনজাতিদের উন্নয়ন চায়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিজেপি সদা সরব রয়েছে। তিনি বলেন, তিপ্রা মথার নেতৃত্বে এডিসি এলাকায় বিপুল পরিমাণ সন্ত্রাস চলছে। এই সন্ত্রাসকে বিজেপি কখনো প্রশ্রয় দেয় না। এর তীব্র বিরোধিতা করে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সংকল্প পত্র অনুযায়ী এডিসি এলাকার ব্যাপক পরিবর্তন এবং উন্নয়ন সাধিত হবে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এডিসি নির্বাচনের প্রাক্কালে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে বিজেপি। এদিনের এই সংকল্প পত্র উন্মোচনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা, সাংসদ রাজিব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, মন্ত্রী সান্তনা চাকমা সহ অন্যান্যরা।
বিজেপির সংকল্প পত্রে এডিসি এলাকা ও জনজাতিদের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে। এই নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে এডিসির উন্নয়নে ২৯টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।
বিজেপি ক্ষমতায় এলে উপজাতি এলাকায় সামগ্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ২৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে।
দলের ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— ককবরকসহ সকল উপজাতি ভাষার যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, গণতান্ত্রিকভাবে ভিলেজ কমিটি গঠন এবং উপজাতি সমাজের প্রথাগত আইন ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ। পাশাপাশি, উপজাতি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করতে প্রতিটি জোনে হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য প্রতিটি উপজাতি জেলায় কন্যাদের জন্য হোস্টেল, ধলাই জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ এবং খুমুলুঙে নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি ভিলেজ কমিটি এলাকায় আধুনিক অফিস ভবন নির্মাণ, গ্রামীণ বাজার আধুনিকীকরণ এবং অনুষ্ঠানের জন্য উন্নত সুবিধাসম্পন্ন খোলা জায়গা কমিউনিটি হলে তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুমুলুঙে একটি আধুনিক ফুটবল একাডেমি এবং একটি মার্শাল আর্টস একাডেমি গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
জনজাতি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন, উপজাতি পোশাক ও বয়ন কেন্দ্র স্থাপন এবং বাঁশজাত পণ্যের প্রশিক্ষণ ও বিপণন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি)শক্তিশালীকরণ, যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা এবং ‘লখপতি দিদি’ প্রকল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, রাবার চাষে সহায়তা বৃদ্ধি এবং জুমিয়া পরিবারের জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
গৃহনির্মাণ ও মৌলিক পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় সকল যোগ্য পরিবারকে পাকা বাড়ি প্রদান, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতকরণ, পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবকদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং ‘ড্রাগ-ফ্রি ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সবশেষে, টিটিএএডিসি -এর নাম পরিবর্তন করে “ত্রিপুরা অটোনোমাস টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল(টিএটিসি)” করার প্রস্তাব এবং খুমুলুঙ শহরের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির কথাও এই ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিশ্রুতিগুলি ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করতে পারে।



















