তিরুভাল্লা (কেরল), ৪ এপ্রিল (আইএএনএস): নারী ক্ষমতায়নকে সামনে রেখে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে সর্বসম্মত সমর্থনের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার তিরুভাল্লায় এনডিএ-র জনসভা থেকে তিনি জানান, সংসদে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদে এই বিল নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বিরোধী দলগুলিকে গঠনমূলকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সর্বসম্মত সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ডিলিমিটেশন নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে মোদী স্পষ্ট করেন, কেরল বা তামিলনাড়ুর একটি লোকসভা আসনও কমবে না। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য কিছু মহল থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
দিনের শুরুতে কোচি পৌঁছে চাঙ্গানাশেরি হয়ে তিরুভাল্লায় আসেন প্রধানমন্ত্রী। পথে বিপুল জনসমাগমের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এটি আনুষ্ঠানিক রোডশো না হলেও জনতার উপস্থিতি রোডশোর থেকেও বেশি ছিল।”
নারী কল্যাণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে তিনি আবাসন, পানীয় জল সরবরাহ এবং কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে ক্যানসার ভ্যাকসিনের মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কেরলে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার এলে এই প্রকল্পগুলি আরও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
শাসনব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এবং ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-কে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, দুই জোট পালা করে ক্ষমতায় এলেও রাজ্যে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি।
পরিকাঠামোর ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি খারাপ রাস্তা, সেতুর অভাব এবং কোট্টায়ম মেডিক্যাল কলেজের সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন।
মোদী দাবি করেন, তাঁর সরকারের আমলে কেরল কেন্দ্র থেকে আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। কৃষকদের জন্য ১৩,০০০ কোটি টাকার সহায়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রাবার চাষিরাও উপকৃত হয়েছেন।
উত্তর-পূর্বের খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজ্য এবং গোয়ায় এনডিএ-র উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কেরলেও একই ধরনের অগ্রগতি সম্ভব।
দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা এবং যুবকদের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতাকে রাজ্যের অগ্রগতির প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি ভোটারদের এলডিএফ ও ইউডিএফ—দুই জোটকেই প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।



















