আগরতলা, ৪ এপ্রিল: বকেয়া প্রাপ্য দ্রুত মেটানোর দাবিতে ত্রিপুরা জুটমিল যৌথ আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে জুটমিলের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের নিকট গণডেপুটেশনে মিলিত হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জুটমিলের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের দপ্তরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন যৌথ কমিটির কনভেনার ধনমনি সিংহ। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধিদলে ছিলেন নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ, সুশীল সরকার, প্রদীপ দেবনাথ, শিবানী দাস চক্রবর্তী, ভজন দেবনাথ ও গঙ্গা কলই প্রমুখ।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা মেটানো হয়নি। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জুটমিল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, গত ৩০ মার্চ ২০২৬ সালের জুটমিল কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে জানিয়েছিল যে, চতুর্থ পে-কমিশন অনুযায়ী সকল শ্রমিকের প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হবে। হলফনামায় কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, মোট ১৬৩৭ জন শ্রমিকের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে। এর মধ্যে ৪০৭ জন শ্রমিকের বকেয়া ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ১২৩১ জন শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৫২৮ জনের বেতন আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এবং অবশিষ্ট ৭০৩ জনের বেতন আগামী ছয় মাসের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তাঁদের দাবিগুলো হল, ১৯৯৬ সালে কর্মরত শ্রমিকদের সমস্ত প্রাপ্য অবিলম্বে মেটাতে হবে, পে-স্লিপ, আইপিএস ও সার্ভিস ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে, লিভ সেলারি ও হাউস রেন্ট প্রদানে অসঙ্গতি দূর করতে হবে, প্রাপকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে, আবাসিকদের উচ্ছেদ নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে, গৃহহীন শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
যৌথ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।



















