নয়াদিল্লি, ৪ এপ্রিল (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং মিলেট বা শস্যভিত্তিক খাদ্য প্রসারে প্রযুক্তি ও তৃণমূল স্তরে আরও জোরদার উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রচার, স্টার্টআপ এবং এমএসএমই-র সঙ্গে লক্ষ্যভিত্তিক সংযোগ বিশেষভাবে জরুরি, বিশেষ করে রেডি-টু-ইট এবং ‘ক্যারি-হোম’ ধরনের খাদ্যপণ্যের মতো দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্রে। তিনি উল্লেখ করেন, মিলেট-ভিত্তিক প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ও উদ্যোক্তা পরিবেশ বিস্তারের মধ্যেই আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে।
ভারতে মিলেট প্রসার নতুন গতি পেয়েছে, কারণ কেন্দ্র সরকার একদিকে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অন্যদিকে তৃণমূল স্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ড. সিং জানান, ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মিলেটের রেসিপি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক খাদ্য সংস্থা যেমন ম্যাকডোনাল্ডস-এর মতো চেইনে পরিবেশন করা হচ্ছে।
মাইসোরে অবস্থিত সেন্ট্রাল ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিএফটিআরআই)-এর অধীনে দেশের প্রথম মিলেট ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এখানকার উদ্ভাবন ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি, এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে নতুন আবাসিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, সিএফটিআরআই ইতিমধ্যেই শতাধিক প্রযুক্তি তৈরি করেছে যা বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত বাজারে সহজ প্রবেশ এবং শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
প্রায় ২০ কোটি টাকার আরকেভিওয়াই প্রকল্পের অধীনে গড়ে ওঠা এই মিলেট প্রসেসিং ইউনিটে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে একসঙ্গে নয় ধরনের মিলেট প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব। প্রতিদিন ৬০–৭০ টন পরিষ্কার এবং ১২–১৫ টন মাড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে এই ইউনিটের। এখানে আটা, সুজি (রাভা) এবং ব্র্যানসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদিত হয়, যা পুষ্টিগুণ বজায় রাখা, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন নিশ্চিত করে।
ড. সিং জোর দিয়ে বলেন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষক, মহিলা গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলির জীবিকায় সরাসরি সহায়তা করা উচিত।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং টেকসই পুষ্টির দিকে নজর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলেট ভারতের খাদ্য অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসছে। সিএফটিআরআই-এর এই মডেল, যা গবেষণা, শিল্প সংযোগ এবং তৃণমূল উন্নয়নকে একত্রিত করে, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।


















