নয়াদিল্লি, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অধিকাংশ এক্সিট পোল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র জয়ের পূর্বাভাস দিলেও, বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন—২০২১ সালের ফলাফল অনুমান করতে ব্যর্থ হয়েছিল বহু সংস্থা। তবে এবারের রেকর্ড ভোটদান নতুন করে ‘শাসন পরিবর্তন’-এর সম্ভাবনা জাগাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটদানের হার বেড়ে যাওয়া অতীতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। জরুরি অবস্থার পর ১৯৭৭ সালে প্রথম বড় পরিবর্তন ঘটে, যখন মাত্র ৫৬.১৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সেই সময় জ্যোতি বসু-র নেতৃত্বে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে এবং টানা ২৩ বছরেরও বেশি সময় শাসন করে।
পরবর্তী সময়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-র নেতৃত্বে ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট আবার জয়ী হলেও, ভোটদানের হার বৃদ্ধিকে অনেকেই সরকারবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন।
২০১১ সালে রেকর্ড ৮৪.৭২ শতাংশ ভোটদানের মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস জোট বামফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তৃণমূল একাই ১৮৪টি আসন পায়, কংগ্রেস পায় ৪২টি।
এরপর ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন জিতে ক্ষমতায় ফেরে। ওই নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮২.৩০ শতাংশ। ভারতীয় জনতা পার্টি প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে ৭৭টি আসন নিয়ে, আর বাম ও কংগ্রেস শূন্য হয়ে যায়।
এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটদানের হার সব রেকর্ড ভেঙে ৯২.৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে। পুরুষদের ভোটদান ৯১.৭৪ শতাংশ এবং মহিলাদের ৯৩.২৪ শতাংশ—দুটিই সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ভোটদান যদি অতীতের ধারা অনুসরণ করে, তবে পশ্চিমবঙ্গে আবারও শাসন পরিবর্তন হতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফল জানা যাবে ৪ মে ভোটগণনার দিনেই।



















