প্রতিনিধি, কল্যাণপুর, ২ এপ্রিল:
একদিকে বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপ, অন্যদিকে ভগ্নপ্রায় অবকাঠামো—এই দুইয়ের মাঝেই প্রতিদিন নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দায়িত্ব পালন করছেন কল্যাণপুর ট্রাফিক ইউনিটের পুলিশকর্মীরা। বিশেষ করে কল্যাণপুর মোটরস্ট্যান্ড সংলগ্ন ট্রাফিক পোস্টের বেহাল দশা এখন উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর আগে নির্মিত ট্রাফিক পোস্টটি বর্তমানে সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। টিনের চালা খসে পড়ছে, মরিচা ধরা লোহার কাঠামো নড়বড়ে হয়ে গেছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই পোস্টের ভিতরে জল ঢুকে পড়ে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেই প্রতিদিন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, কল্যাণপুর মোটরস্ট্যান্ড এলাকা প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর আনাগোনায় অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোট-বড় গাড়ির অবিরাম চলাচলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু পর্যাপ্ত আধুনিক সরঞ্জাম ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় সেই কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক সময়ই তীব্র রোদ কিংবা প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায় পুলিশকর্মীদের।
এক ট্রাফিক কর্মী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানান, “আমাদের কাজ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। পোস্টের অবস্থা এতটাই খারাপ যে যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচলতি মানুষজনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ট্রাফিক পুলিশদের প্রতিদিনই কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নতুন ট্রাফিক পোস্ট নির্মাণ এবং আধুনিক সুবিধা প্রদান করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে নিরাপদ ও আধুনিক অবকাঠামো থাকা অত্যন্ত জরুরি। উন্নত ট্রাফিক সিগন্যাল, সিসিটিভি নজরদারি এবং সুরক্ষিত পোস্ট থাকলে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, তেমনি কর্মীদের কাজও সহজ হবে।
এদিকে কল্যাণপুর থানার ওসি ইন্সপেক্টর আশীস সরকার জানিয়েছেন, কল্যাণপুর মোটরস্ট্যান্ডের উপর দিয়ে জাতীয় সড়কের নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। সেই কারণে কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাফিক পোস্টটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, দুর্ঘটনা কোনও সময়ের অপেক্ষা করে না। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।



















