গালফ সংকট নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবিতে বিক্ষোভ বিরোধী সাংসদদের

নয়াদিল্লি, ৯ মার্চ (আইএএনএস): গালফ অঞ্চলের চলমান সংঘাত এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবিতে সোমবার সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখাল বিরোধী সাংসদরা। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-র নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাংসদরা অভিযোগ করেন, গালফ সংকট এবং তার ফলে ভারতের অর্থনীতি ও বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনও পর্যন্ত “সম্পূর্ণ নীরবতা” বজায় রেখেছেন।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ কে. সি. ভেনুগোপাল সামাজিক মাধ্যমে জানান, ভারত ব্লক-এর সাংসদরা গালফ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি করেন।

ভেনুগোপাল বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং গালফ অঞ্চলে কর্মরত বহু ভারতীয় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ভারত এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানির দাম প্রতিদিন বাড়ছে। তাই এই বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা জরুরি।”

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর-ও সংসদে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানান। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আজ সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্পক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাঁর কথায়, “দুই দিন আগেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বেড়েছে এবং পেট্রোলের দামও বাড়তে পারে। এটি দেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।”

কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুর অভিযোগ করেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব সত্ত্বেও সরকার নীরব রয়েছে।

অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি-র সাংসদ রাম গোপাল যাদব বলেন, সংসদে যখন কোনও বিবৃতি দেওয়া হয় তখন বিরোধীদের ব্যাখ্যা চাওয়ার অধিকার থাকে। কিন্তু সরকার প্রায়ই সেই সুযোগ দেয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদ রজনী পাতিল-ও বলেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন রয়েছে। তাই সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

বিরোধী দলগুলির দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানির দাম এবং গালফ অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকারকে এই বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত বিবৃতি দিয়ে আলোচনা করতে হবে।

Leave a Reply