রপ্তানিমুখী কৃষি উৎপাদনের এখনই সঠিক সময়: প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ৬ মার্চ (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, রপ্তানিমুখী কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের কৃষকরা আরও শক্তিশালী হবেন।

শুক্রবার “কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর” বিষয়ক পোস্ট-বাজেট ওয়েবিনারে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এবং এটি একটি কৌশলগত স্তম্ভ।

তিনি বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় চতুর্থাংশ শুরু হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে নতুন শক্তির সঞ্চার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববাজারে চাহিদার পরিবর্তন হচ্ছে। তাই রপ্তানিমুখী কৃষি, ফসলের বৈচিত্র্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন।”

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে একাধিক সংস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি কৃষি বিশেষজ্ঞ, শিল্পক্ষেত্র এবং কৃষকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে উচ্চমূল্যের কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে ভারত বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিতে পারে।

তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সংযুক্ত হতে হলে কৃষিপণ্যের মান ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।”

মোদি জৈব ও প্রাকৃতিক চাষাবাদের প্রসার ঘটিয়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত করার দিকেও জোর দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, মৎস্যচাষ একটি বড় রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হতে পারে।

গ্রামীণ সমৃদ্ধির জন্য নতুন ব্যবসায়িক মডেল এবং উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কাজু, নারকেল, চন্দন, আগর, বাদাম, আখরোট ও পাইন নাটের মতো উচ্চমূল্যের ফসলের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এছাড়াও প্রাণিসম্পদ ও উপকূলীয় মৎস্যখাতের মূল্যশৃঙ্খলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। গ্রামীণ মহিলা উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ‘এসএইচই-মার্টস উদ্যোগকেও উৎসাহিত করার কথা বলেন।

সরকার ইতিমধ্যেই কৃষিক্ষেত্রে একটি বৃহৎ ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার মিশনের আওতায় ৭.৬৩ কোটিরও বেশি কৃষক আইডি তৈরি হয়েছে এবং ২৩.৫ কোটির বেশি ফসলের জমি জরিপ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে কৃষিখাতে ১,৬২,৬৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন, যা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সংশোধিত ১,৫১,৮৫৩ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।

এই বাজেটে উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য, সহায়ক খাত এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় নারকেল, চন্দন, কোকো ও কাজুর চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতে আগর গাছ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বাদাম, আখরোট ও পাইন নাটের উৎপাদনেও সহায়তা দেওয়া হবে।

Leave a Reply