জয়পুর, ৮ জুন (আইএএনএস): বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজস্থানের জয়পুরের একাধিক এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিল জেলা প্রশাসন।
সোমবার নির্ধারিত এই অভিযানে জয়পুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (জেডিএ) জগতপুরার নন্দপুরী আন্ডারপাস থেকে রেললাইনের সমান্তরাল সড়কটিকে অনুমোদিত ৮০ ফুট প্রস্থে সম্প্রসারণের কাজ শুরু করবে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে গুজব, ভুয়ো খবর বা উস্কানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে পড়লে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই জয়পুরের বিভাগীয় কমিশনার ভি. সর্বণ কুমার ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছেন।
নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় ২জি, ৩জি, ৪জি এবং ৫জি মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। শুধু মোবাইল ডেটাই নয়, বাল্ক এসএমএস পরিষেবা এবং ইন্টারনেটভিত্তিক মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক এবং এক্স-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
তবে সরকারি ও জরুরি পরিষেবাগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। জয়পুর পুলিশ কমিশনারেট এবং সংলগ্ন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির জন্য বিশেষ সাইবার টিমও সক্রিয় করা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়েছে, গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে এমন কোনও বার্তা ছড়ালে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি যাচাই না করা তথ্য প্রচার না করার আবেদনও জানানো হয়েছে।
সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাস্তার নির্ধারিত সীমানার মধ্যে থাকা পাঁচটি ধর্মীয় স্থাপনা সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জয়পুর, কোটা এবং ভরতপুর রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী আনা হয়েছে। পুরনো শহর-সহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
জেডিএ-র ভিজিল্যান্স শাখার ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল আনন্দ শর্মা জানান, গত ২২ মে একই রুটে ১৩৪টি অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এরপর সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় স্থাপনাগুলির পরিচালন কমিটি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় স্থানান্তরের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে ওই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সরকারি নথি অনুযায়ী রাস্তার অনুমোদিত প্রস্থ ৮০ ফুট হলেও অবৈধ দখলের কারণে বহু অংশে তা ২৫ থেকে ৩০ ফুটে নেমে এসেছে।
প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নন্দপুরী আন্ডারপাস থেকে জগতপুরা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ছয়টি বড় আবাসিক এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের মতে, রাস্তা চওড়া হলে হরে কৃষ্ণ মার্গে যানজট অনেকটাই কমবে এবং নন্দপুরী ও জগতপুরার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। মালব্য নগর-সহ আশপাশের ৫০টিরও বেশি আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা এর সুফল পাবেন।
— আইএএনএস



















