খামেনেই হত্যাকাণ্ডে ‘নীরবতা’ : ভারত কখনও এতটা দুর্বল দেখায়নি, সরকারের বিদেশনীতির কড়া সমালোচনায় বিরোধীরা

নয়াদিল্লি, ১ মার্চ : ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায় গোটা পশ্চিম এশিয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ‘নীরবতা’ নিয়ে সরব হয়েছে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তাদের অভিযোগ, এই ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া ভারতের ঐতিহ্যবাহী পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা এক্স-এ লেখেন, খামেনেই এবং অন্যান্য ইরানি নেতাদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড নিয়ে মোদি সরকারের নীরবতা প্রমাণ করে তারা নৈতিক নেতৃত্ব ত্যাগ করেছে এবং আমেরিকা ও ইসরায়েলের সমালোচনা করতে অনিচ্ছুক। ভারত এর আগে কখনও এতটা দুর্বল দেখায়নি।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়ারাম রমেশ আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, স্বঘোষিত ‘বিশ্বগুরু’র আমলে ভারতের বিদেশনীতি সম্পূর্ণ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে মোদির ইসরায়েল সফরের মাত্র দু’দিন পরেই এই হামলা শুরু হয়।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, এই আন্তর্জাতিক সঙ্কটে ভারতের সরকারকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে এবং যুদ্ধ বন্ধে কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা জানাতে হবে। আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং মোদির সমালোচনা করে লেখেন, আমেরিকা ও ইসরায়েলের অত্যাচার নিয়ে কিছু বলুন মোদি জি, আপনি বিশ্বগুরু নন।

সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয়। তিনি সরকারকে আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তির পক্ষে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

রবিবার বিকেল পর্যন্ত খামেনেইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। তবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ইরান ও ইসরায়েলের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। এদিকে, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দিল্লির যন্তর মন্তরে অল ইন্ডিয়া শিয়া কাউন্সিল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকা লাল চক, বুদগাম, বান্দিপোরা, অনন্তনাগ ও পুলওয়ামায় বিক্ষোভ দেখা যায়।

লখনউতেও শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মৌলানা ইয়াসুব আব্বাস তিন দিনের শোক ঘোষণা করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র কুশপুতুল দাহের ঘোষণা দেন।

কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা, এই সংঘাত বৃহত্তর আকার ধারণ করতে পারে।

Leave a Reply