নয়াদিল্লি, ২৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): জিএসটি আইনের আওতায় ফিনো পেমেন্টস ব্যাঙ্ক-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ঋষি গুপ্তর গ্রেফতারির ঘটনায় বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। প্রাক্তন ইনফোসিস সিএফও মোহনদাস পাই সোশ্যাল মিডিয়ায় জিএসটির ‘অতিরিক্ত প্রয়োগ’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।
ঋষি গুপ্তকে শুক্রবার কেন্দ্রীয় পণ্য ও পরিষেবা কর (সিজিএসটি) আইন এবং রাজ্য জিএসটি আইনের আওতায় গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর ব্যাঙ্কের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে সিএফও কেতন মার্চেন্টের হাতে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিষয়টি কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বোর্ড (সিবিআইসি) খতিয়ে দেখতে পারে এবং অর্থমন্ত্রকও রিপোর্ট তলব করতে পারে। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি নজরে নেওয়ার পর প্রশাসনিক স্তরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে কেতন মার্চেন্ট জানান, এই জিএসটি তদন্তটি ব্যাঙ্কের কিছু ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কিত, যাঁদের অন্য ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গেও লেনদেন রয়েছে। “প্রোগ্রাম ম্যানেজারদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক বা আমাদের এমডি ও সিইও ঋষি গুপ্তর কোনও সম্পর্ক নেই,” বলেন তিনি।
মোহনদাস পাই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অর্থমন্ত্রীকে ট্যাগ করে লেখেন, “একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যাঙ্কের সিইও-কে কীভাবে ব্যবসায়িক অংশীদারের ইস্যুতে গ্রেফতার করা যায়? এটি কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? জিএসটির জন্য অর্থমন্ত্রক বিপুল ক্ষমতা দিয়েছে। নাগরিকদের সুরক্ষার কী ব্যবস্থা আছে? দয়া করে হস্তক্ষেপ করুন।”
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী লেখেন, “বিষয়টি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। খতিয়ে দেখব।”
মার্চেন্ট আরও জানান, ফিনো পেমেন্টস ব্যাঙ্কে শক্তিশালী কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো রয়েছে এবং সংস্থা সমস্ত আইন, জিএসটি-সহ, মেনে চলে। তিনি বলেন, “আমরা দেশের বিচারব্যবস্থার উপর পূর্ণ আস্থা রাখি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
গ্রাহক, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীদারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ব্যাঙ্কের পরিষেবা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনও প্রভাব পড়বে না এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজ চলবে।

