নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে শশী থারুর-এর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি। দলের নেতারা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করছে এবং জাতীয় সংগীতসদৃশ মর্যাদাপ্রাপ্ত ‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছে।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেছিলেন, প্রতিবার অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর পাঁচটি স্তবক গাওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা “অপ্রয়োজনীয় চাপিয়ে দেওয়া”। তিনি কেরলের কংগ্রেস-সমর্থিত সরকারের পূর্ণাঙ্গ গান না বাজানোর সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করেন।
কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার-এর ভিন্ন মত প্রসঙ্গে থারুর বলেন, এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। তাঁর মতে, সংসদে এমন কোনও আইন পাস হয়নি যা ‘বন্দে মাতরম’-এর সব স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করে।
থারুর আরও বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে কোনও অনুষ্ঠানের শুরু ও শেষে পাঁচটি স্তবকের পুরো গান চলাকালীন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের পক্ষেই অসুবিধাজনক হতে পারে।
থারুরের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি নেতা রোহান গুপ্তা। তিনি বলেন, “একটি জাতীয় দলের নেতা ‘বন্দে মাতরম’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এতে কংগ্রেসের মানসিকতাই স্পষ্ট হয়। তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।”
তিনি কংগ্রেসকে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রাজনীতি না করার পরামর্শ দেন।
বিজেপির মুখপাত্র উজ্জ্বল দীপকম বলেন, “শশী থারুরের ইতিহাস পড়া উচিত। কংগ্রেসই একসময় ‘বন্দে মাতরম’-এর মূল অংশ বাদ দিয়ে শুধু প্রথম দুই স্তবককে সামনে এনেছিল। বিজেপিই দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবকে পুনরুদ্ধার করেছে।”
অন্যদিকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস এখন মুসলিম লীগের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
তাঁর কথায়, “কংগ্রেসের নীতি ও উদ্দেশ্য দেশপ্রেম নয়। তারা সবসময় বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। কেরলের সরকারও কার্যত ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগ-এর প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং তার পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ বাজানো নিয়ে কেরলে সম্প্রতি রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই বিতর্কেই শশী থারুরের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



















