কাবুল, ২৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): আফগানিস্তানে বিমান হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করে একে “লজ্জাজনক কাজ” আখ্যা দিয়েছে তালিবান। একই সঙ্গে ইসলামাবাদকে এর সামরিক জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
তালিবান-এর মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আল আরাবিয়া ইংরেজিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্বাভাবিকভাবেই এর সামরিক জবাব হবে। তবে তার বিস্তারিত গোপনীয়, আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না। পাকিস্তানকে তার লজ্জাজনক কাজের জবাব পেতেই হবে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়, যাতে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। অন্যদিকে ইসলামাবাদের দাবি, তারা পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।
মুজাহিদ বলেন, নানগারহারে ২২ সদস্যের একটি পরিবার হামলার শিকার হয়, যার মধ্যে ১৭ জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। একটি স্কুলে হামলার ফলে এক শিশু আহত হয়েছে এবং একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তার কথায়, সেখানে কোনও সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল না। শুধুমাত্র বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে এবং বেসামরিক এলাকাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পাকিস্তানের এই অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন যে আফগান ভূখণ্ড প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুজাহিদ বলেন, দুঃখজনকভাবে পাকিস্তানে যখনই কোনও হামলা হয়, প্রমাণ ছাড়াই তারা সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের ওপর দোষ চাপায়। আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করছি। আফগান মাটি কারও বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।
তিনি দাবি করেন, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র আফগানিস্তানে কোনও উপস্থিতি নেই এবং গোষ্ঠীটি মূলত পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই সক্রিয়। এগুলি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। টিটিপি পাকিস্তানের ভেতরেই বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের আফগান ভূখণ্ডের প্রয়োজন নেই, আর আমরা তা হতে দেবও না, বলেন তিনি।
মুজাহিদ আরও অভিযোগ করেন, নিজেদের দাবির পক্ষে পাকিস্তান কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করেনি এবং আইএসআইএস দমনের পরিবর্তে তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে।
এদিকে, ২৪ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) জানায়, পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন, যার মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে, নিহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস জানায়, ২১–২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে নানগারহারের বাহসুদ ও খোগিয়ানি জেলায় বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত এবং সাতজন আহত হন। পাকতিকার বারমাল জেলায় একটি স্কুল ও একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওরগুন জেলায় একটি বাড়ি ধ্বংস হয়।
ইউএনএএমএ পাকিস্তানের এই বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে অবিলম্বে শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি না হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

