বরিশালে টানা তিন দিন আদালত অচল, চরম দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থীরা

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): বাংলাদেশে বরিশাল জেলায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে গ্রেফতার এবং ১২ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে টানা তিন দিন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় বিচারপ্রার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালত-সহ সব আদালতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে আদালত প্রাঙ্গণে আসা বহু বিচারপ্রার্থী কোনও অগ্রগতি ছাড়াই ফিরে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপ্রার্থীদের একজন সবুজ হাওলাদারকে দুপুর পর্যন্ত এক আদালত কক্ষ থেকে আরেকটিতে ঘুরতে দেখা যায়, হাতে মামলার নথিপত্র নিয়ে।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিন মাস ১০ দিন আগে আকবর আলী হাওলাদার-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত আকবর আলী জামিনে রয়েছেন বলে জানায় দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার।

সবুজ বলেন, জামিনের জন্য আমরা হাইকোর্টে গেলে আদালত নিম্ন আদালতে আবেদন করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু গত তিন দিন ধরে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমি জামিনের আবেদন জমা দিতে পারছি না।

তিনি আরও জানান, জামিন আবেদনের সময়সীমা আগামী রবিবার শেষ হচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবারই কার্যত শেষ কর্মদিবস ছিল। কিন্তু আদালত বন্ধ থাকায় আমি গভীর উদ্বেগে আছি, বলেন তিনি।

আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দ্রুত বিচার আইনে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন-সহ ১১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আদালত কক্ষে ভাঙচুর ও বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে লিংকনের নেতৃত্বে আন্দোলনরত একদল আইনজীবী অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত কক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার মামলাটি দায়ের করেন। এরপর সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভরত আইনজীবীরা তার অবিলম্বে জামিনে মুক্তির দাবি জানান এবং দিনের মধ্যে মুক্তি না দিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রাখার হুমকি দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্ষোভকারী আইনজীবী বলেন, বরিশালজুড়ে ৭২ ঘণ্টা ধরে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ। বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন, কিন্তু যখন আইনজীবীরাই অন্যায়ের শিকার, তখন আমাদের কিছু করার থাকে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহার এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে জামিন না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply