ভুবনেশ্বর, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): রাজ্যের কথিত কৃষক-বিরোধী নীতি ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভুবনেশ্বরের লোয়ার পিএমজি এলাকায় বিশাল কৃষক সমাবেশের আয়োজন করল বিরোধী দল বিজু জনতা দল (বিজেডি)।
হাজার হাজার বিজেডি কর্মী ও নেতা প্রথমে মাস্টার ক্যান্টিন স্কোয়ারে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল করে লোয়ার পিএমজি-তে পৌঁছে এক বিশাল জনসভা করেন তাঁরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেডি সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়েক বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মন্ডিতে অনিয়ম বাড়ছে এবং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
নবীন পট্টনায়ক বলেন, বর্তমান সরকার মুখে “জয় কিষান” স্লোগান দিলেও কাজে “ভাগো কিষান” নীতি অনুসরণ করছে। “কেবল গল্প আর বক্তৃতা দিয়ে সরকার চলে না, বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হয়,” মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় দুই বছর হতে চললেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। “ভোটের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু একটিও পূরণ হয়নি,” অভিযোগ করেন তিনি।
পূর্ববর্তী বিজেডি সরকারের কৃষকবান্ধব পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আলাদা কৃষি বাজেট চালু করা হয়েছিল, কল্যাণমূলক কালিয়া (কৃষক অ্যাসিস্ট্যান্স ফর লাইভলিহুড অ্যান্ড ইনকাম অগমেন্টেশন) প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছিল, ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না, ধান ক্রয় সঠিকভাবে হচ্ছে না এবং ‘কাটনি-ছাটনি’ (ধানের ওজন কম দেখানো) বেড়েছে। কৃষকেরা সময়মতো অর্থ পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
নবীন প্রস্তাব দেন, ‘কাটনি-ছাটনি’ রুখতে বিশেষ স্কোয়াড গঠন, মিলার ও সরকারি আধিকারিকদের কথিত যোগসাজশ ভাঙা, ইনপুট ভর্তুকির ১৫০ কুইন্টাল সীমা প্রত্যাহার, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিবিটি-র মাধ্যমে অর্থ প্রদান এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খোলা মাঠে পড়ে থাকা ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। “শত শত কোটি টাকা প্রচারে খরচ হচ্ছে, কিন্তু কৃষকদের জন্য কিছুই করা হচ্ছে না,” বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নবীন বলেন, রাজ্যে কেউই নিরাপদ নন। নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যুবকদের কর্মসংস্থান নেই। বারবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাতেও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।
“মানুষ সেবা চায়, বক্তৃতা নয়। কেবল গল্পে সরকার চলে না, ফলাফল দেখাতে হয়,” মন্তব্য করে তিনি জানান, কৃষকদের অধিকার রক্ষায় বিজেডি লড়াই চালিয়ে যাবে।

