সুপ্রিম কোর্টের রায়েও থামছে না ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি বিতর্ক, অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজার

নয়াদিল্লি, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত একাধিক বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করলেও, তাতে বিশ্ববাণিজ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতা এখনও কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বাণিজ্য ও শুল্ক নীতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রেড’ ও ‘ট্যারিফ’ শব্দ দু’টিকে সামনে রেখে একাধিক নীতিগত পরিবর্তন আনেন। গত বছর তিনি তথাকথিত “রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ” চালু করেন, যার ফলে বহু দেশকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করতে বা আলোচনায় বসতে বাধ্য হতে হয়।

যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান মন্তব্য করেছে, ২০২৫ সালে ট্রাম্প যখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো আমূল বদলে দেন, তখন জাপানসহ একাধিক দেশ দ্রুত চুক্তির পথে হাঁটে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের বাণিজ্য পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ৬–৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে জানায়, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালত স্পষ্ট করে যে, আইইইপিএ জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রণীত, বিস্তৃত বাণিজ্য নীতির জন্য নয়। ফলে ট্রাম্পের আগের বহু “রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ” বাতিল হয়ে যায়।

রায়ের পর ট্রাম্প ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেন এবং পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা প্রয়োগ করেন। যদিও এই ধারা অনুযায়ী শুল্ক আরোপ সম্ভব, তা সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য এবং কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় প্রতিনিধি পরিষদ দ্রুত সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত, ব্রাজিল ও চীন কোনও বড় সমঝোতা না করেই উল্লেখযোগ্য শুল্ক ছাড় পেয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলি ছাড় দেওয়া সত্ত্বেও বেশি শুল্কের মুখে পড়তে পারে।

ভারত সরকার সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে আলোচনা সাময়িক স্থগিত রেখেছে। দেশের বস্ত্র, রাসায়নিক ও অটো পার্টস রপ্তানিকারকরা উদ্বেগে রয়েছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে প্রাথমিক বাণিজ্য সমঝোতার পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে এবং প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল বেজিংয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তার আগে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং তার প্রভাব বিশ্লেষণ করছে। তাদের মতে, একতরফা শুল্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ম ও মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প হয়তো এখন চীনের কাছ থেকে মার্কিন সয়াবিন, বোয়িং বিমান বা জ্বালানি আমদানির বড় প্রতিশ্রুতি আদায়ে আগের মতো চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন না। পাশাপাশি, বিরল খনিজ রপ্তানির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও বেজিং ধীর কৌশল নিতে পারে।

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের রায় সত্ত্বেও ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Reply