নয়াদিল্লি, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (সিসিইএ) ২০২৬-২৭ বিপণন মরশুমের জন্য কাঁচা পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) কুইন্টালপিছু ২৭৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মরশুমে টিডি-৩ গ্রেডের কাঁচা পাটের এমএসপি নির্ধারণ করা হয়েছে কুইন্টালপিছু ৫,৯২৫ টাকা। এই মূল্য উৎপাদনের সর্বভারতীয় ওজনযুক্ত গড় খরচের তুলনায় ৬১.৮ শতাংশ মুনাফা নিশ্চিত করবে।
২০১৮-১৯ সালের বাজেটে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, এমএসপি উৎপাদন খরচের অন্তত ১.৫ গুণ নির্ধারণের যে নীতি নেওয়া হয়েছিল, নতুন এমএসপি সেই নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।
২০২৫-২৬ মরশুমের তুলনায় ২০২৬-২৭ মরশুমে এমএসপি ২৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে কাঁচা পাটের এমএসপি ছিল কুইন্টালপিছু ২,৪০০ টাকা, যা ২০২৬-২৭-এ বেড়ে ৫,৯২৫ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই সময়ে মোট ৩,৫২৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে পাটচাষিদের এমএসপি বাবদ মোট ১,৩৪২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। তুলনায় ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪৪১ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া(জেসিআই) আগের মতোই মূল্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের কার্যক্রমে কোনও ক্ষতি হলে তা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র সরকার বহন করবে।
ভারত বিশ্বে কাঁচা পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশ। দেশের মোট উৎপাদনের ৯৯ শতাংশের বেশি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে কেন্দ্রীভূত। অনুকূল জলবায়ু ও অলুভিয়াল মাটির কারণে পশ্চিমবঙ্গ একাই দেশের মোট উৎপাদনের ৮০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে। এর পরেই রয়েছে বিহার ও অসম।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে পাটচাষিদের আয় বৃদ্ধি এবং পাটখাতের স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

