ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিদায়ী প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন একই ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটর। তাঁর দাবি, তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চক্র ‘প্রধান কৌঁসুলির চেয়ার’কে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
সোমবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ তাজুল ইসলাম এবং সহকারী প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিমের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, অর্থ লেনদেন এবং উচ্চপ্রোফাইল মামলার প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলেন।
সুলতানের দাবি, গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে জুলাই ২০২৪-এ আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আবজালের স্ত্রী এক সন্ধ্যায় ভারী ব্যাগ নিয়ে তামিমের কক্ষে প্রবেশ করেন।
“বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাজুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে জানাই। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং আমাদেরই ভর্ৎসনা করা হয়,” বলেন সুলতান।
তিনি আরও দাবি করেন, পরে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে তামিম স্বীকার করেন যে আবজালের স্ত্রী তাঁর দপ্তরে এসেছিলেন। এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম কেবল প্রশ্ন করেন কেন অভিযুক্তের স্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন—এরপর বিষয়টি আর এগোয়নি বলে অভিযোগ।
সুলতানের অভিযোগ, পরে আবজালকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয় এবং চূড়ান্ত রায়ে তিনি খালাস পান।
এছাড়া চানখারপুল মামলায়, যেখানে জুলাই আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হন, সেই মামলার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুলতান। তাঁর দাবি, ভিডিও ফুটেজে উপপরিদর্শক আশরাফুলকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে দেখা গেলেও তাঁকে অভিযুক্ত না করে সাক্ষী করা হয়েছে।
রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সহকারী পুলিশ কমিশনার আল ইমরান হোসেনকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সুলতানের দাবি, আদালতে একাধিক সাক্ষী ইমরানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিলেও তাঁকে মামলার বাইরে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও যথাযথ কারণ ছাড়াই রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়েছে।
এই অভিযোগের জবাবে সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তাজুল ইসলাম বলেন, “এগুলো ব্যক্তিগত অভিযোগ, যার সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই। আমরা এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখেছি এবং সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে কেউ এসব ছড়ালে তা দুর্ভাগ্যজনক।”
সোমবার মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিটির প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে বিদায়ী প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলামের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাজুল ইসলামকে আইসিটির প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তাঁর কার্যকালে একাধিক মামলায় প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও বিতর্কিত রায়ের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে।

