দীর্ঘ ১৮ মাস পর ফের চালু আগরতলা – কলকাতা ভায়া ঢাকা বাস পরিষেবা, যাত্রীদের স্বাগত জানিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী

আগরতলা, ২৪ ফেব্রুয়ারি: দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আগরতলা – কলকাতা ভায়া ঢাকা যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে। আজ যাত্রীদের স্বাগত জানাতে আখাউড়া সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তাছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিআরটিসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সমর রায়, এমডি হেমন্ত দেববর্মা সহ অন্যরা।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে শুরু হয়েছিল আগরতলা-কলকাতা ভায়া ঢাকা মৈত্রী এবং শ্যামলী বাস পরিষেবা। পরবর্তীতে বাংলাদেশের অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বন্ধ ছিল এই পরিষেবা।বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতির কারণে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরিষেবাটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থিতিশীল সরকার গঠন হওয়ার ভারতবর্ষে এবং বাংলাদেশে ভিসা সরলীকরণ করা হয়েছে। ফলে আজ থেকে পুনরায় এই পরিষেবা চালু হওয়ায় বাংলাদেশ এবং রাজ্যের যাত্রী সাধারণ যে উপকৃত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে বলেন, মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়। এই বাস পরিষেবা শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয় বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

তিনি আরও জানান, এই পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

তাঁর কথায়, বাংলাদেশকে ভারত সবসময়ই আত্মীয় ও প্রতিবেশী পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো অস্থিরতা বা অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা ভারতের মানুষের কাছেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে উভয় পক্ষই আগ্রহী বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, যেমনভাবে এই বাস গন্তব্যে পৌঁছবে তেমনি দুই দেশও পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।

Leave a Reply