বর্তমানে এডিসির মধ্যে শুধু লুটের রাজত্ব চলছে, ২৮টি আসনে বিজেপিকে জয়ী করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২৩ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের বর্তমান সরকার প্রকৃত অর্থে জনজাতি অংশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। আর বর্তমানে এডিসির মধ্যে শুধু লুটের রাজত্ব চলছে। তাই এডিসিতে সত্যিকারের অর্থে উন্নয়ন চাইলে আগামীতে ২৮টি আসনে বিজেপিকে জয়যুক্ত করতে হবে। আজ দক্ষিণ জেলার মনুবনকুলে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

সভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, এতদিন ধরে আপনারা দেখেছেন যে জনজাতিদের জন্য কে ভাবে? অটল বিহারী বাজপেয়ী যখন প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হন তখন কেন্দ্রে আলাদাভাবে জনজাতিদের জন্য কোন দপ্তর ছিল না। সেই সময়ই জনজাতিদের জন্য প্রথম আলাদা দপ্তর খোলা হয়। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর জনজাতিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে আরো জোরদার কাজ শুরু হয়। আজ আমাদের দেশের মধ্যে শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে পরিচয় হচ্ছে। উড়িষ্যার এক প্রত্যন্ত এলাকার জনজাতি মহিলা দ্রৌপদী মুর্মুকে দেশের রাষ্ট্রপতি করা হয়েছে। আমাদের ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সুযোগ্য সন্তান যিনি উপ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তাঁকে এখন তেলেঙ্গানার মতো বড় রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি কিছুদিন আগে একজন জনজাতি ব্যক্তিত্বকে টিপিএসসি (ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন) এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করেছি। সেখানে তিনজন মেম্বারের মধ্যে এক জনজাতি মহিলাকে মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছি। আমরা প্রকৃত অর্থে জনজাতি অংশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বোকা বানানোর জন্য থানসা থানসা বলা হচ্ছে। আসলে কাজের কাজ কিচ্ছু নয়। শুধু নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এধরণের ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলছে। এডিসির মধ্যে এখন শুধু লুটের রাজত্ব চলছে। কে কত বেশি লুট করবে সেই রাজ চলছে সেখানে। যারা সেখানে অডিট করতে গেছেন সেই সমস্ত রিপোর্ট আমার কাছে আছে। আমরা সবাই জানি সেখানে কি হচ্ছে। সত্যিকারের অর্থে এডিসির উন্নয়ন চাইলে আগামীদিন ২৮টি আসনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে জয়যুক্ত করুন। আর সেটা সম্ভব যদি আপনারা আমাদের উপর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন।

জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, আমাদের সরকার আসার আগে ঐতিহ্যবাহী গড়িয়া পূজার জন্য মাত্র একদিনের ছুটি ছিল। গড়িয়া পুজোতে মানুষ যাতে আরো আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেজন্য আমরা দুদিনের ছুটির ঘোষণা দিয়েছি। সংগ্রংমা পুজোর দিনে একদিনের রেস্ট্রিক্টেড ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনজাতি অংশের ছেলেমেয়েদের গুণগত মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ২১টি একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল দিয়েছেন। এরমধ্যে ১২টি শুরু হয়েছে। আরো ৬টি মার্চ মাস থেকে শুরু হয়ে যাবে। বাকিগুলোর কাজও শেষ হয়ে যাবে। আমি নিজেও দিল্লিতে গিয়ে আরো ১৫টি একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল দেওয়ার জন্য দাবি করে এসেছি।

  মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় বলেন, মিজোরাম থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা রিয়াং শরণার্থীরা সুদীর্ঘ বছর ধরে কি দুর্বিষহ জীবন যাপন করেছে। আমাদের সরকার আসার তাদের প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্যাকেজ দিয়ে রাজ্যের ১২টি জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য স্কুল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পানীয় জল, রাস্তাঘাট সহ সমস্ত সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার থাকার কারণে সেটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন যে কমিউনিস্টরা রাজ্যের মহারাজাদের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। আর এখন যারা আমাদের কিছু দেয়নি বলে হৈচৈ করছে, তারা কিন্তু সিপিএমের আমলে রা শব্দ করেনি। শুধু ঘরের ভেতর বসেছিল। আজকে আমরা গণতন্ত্র দেওয়ায় তারা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। আর বড় বড় কথা বলছেন। কিন্তু আগে কোথায় ছিল? আমরা মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের নামে আগরতলা এয়ারপোর্টের নামকরণ করেছি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, জেলা সভাপতি দীপায়ন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সভাধিপতি দীপক দত্ত, বিধায়ক মাইলাফ্রু মগ, মন্ডল সভাপতি বিপুল ভৌমিক, এডিসি সদস্য কংজং মগ, সঞ্জীব রিয়াং, বিএসি চেয়ারম্যান রাখী ত্রিপুরা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

——–

Leave a Reply