কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের বন্ধ বাংলাদেশের ভিসা প্রদান পরিষেবা

আগরতলা, ২২ ডিসেম্বর: কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের একবার বন্ধ করে দেওয়া হলো বাংলাদেশের ভিসা প্রদান ও কনস্যুলার পরিষেবা। অনির্দিষ্টকালের জন্য দিল্লিতে বাংলাদেশের ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি আগরতলাতেও ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আগরতলাস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশন।

আগরতলাস্থিত সহকারী হাই কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগরতলাস্থিত সহকারী হাই কমিশন থেকে সমস্ত ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এই সময়কালে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা অন্য যে কোনও ধরনের ভিসা প্রদান সম্পূর্ণভাবে স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট সংক্রান্ত পরিষেবা, কনস্যুলার অ্যাটেস্টেশন সহ যাবতীয় পরিষেবাও বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কয়েক মাসের ব্যবধানে হঠাৎ করে কেন আবার এই ভিসা পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি। তবে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, “
অনিবার্য পরিস্থিতির কারণেই দিল্লিতে ভিসা ও কনস্যুলার পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষেবাগুলি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির অবনতি এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জানা গেছে, শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশেও একইভাবে ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দু’দেশের মধ্যে সাধারণ যাতায়াত, চিকিৎসা সংক্রান্ত ভ্রমণ, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু মানুষ চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাংলাদেশে যাতায়াত করেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে নয়াদিল্লি ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে রাজশাহী ও খুলনাতেও ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ করা হয়। এমনকি চট্টগ্রামেও অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপগুলির পেছনেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি
অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতের ডেপুটি হাই কমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ এবং সিলেটেও উত্তেজনার খবর সামনে আসে। এই পরিস্থিতির মাঝেই চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে বসবাসকারী বহু মানুষ সমস্যার মুখে পড়বেন, কারণ চিকিৎসা, পর্যটন ও অন্যান্য প্রয়োজনে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে যাতায়াত করেন। অতীতেও অনুরূপ পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল।