লালু প্রসাদ যাদবের ‘ওপেন ডোর’ রাজনীতি থেকে সরে আসা, নতুন বাসভবনে কঠোর নিয়মে প্রবেশ – পরিবর্তনের সংকেত রাজনীতিতে

পটনা, ৩০ নভেম্বর : দীর্ঘদিন ধরে বিহারের রাজনীতিতে গণসংযোগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের বাসভবন। কখনও মুখ্যমন্ত্রীর আবাস ১, অ্যানি মার্গ, আবার কখনও পারিবারিক রাজনৈতিক কেন্দ্র ১০, সার্কুলার রোড—সর্বত্র ছিল সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, দলীয় কর্মী, এমনকি গ্রামের লোকদেরও অবাধ আনাগোনা। তবে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটতে চলেছে।

সূত্রের খবর, লালু যাদব এখন এমন এক নতুন বাসভবনে স্থানান্তরিত হয়েছেন যেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম চালু হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ ছাড়া কারও প্রবেশাধিকার নেই। হঠাৎ আসা বৈঠক এড়ানো হচ্ছে, দর্শকদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে, এমনকি দলীয় নেতা-কর্মীদেরও আগে থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে।

নতুন বাসভবনে লালু যাদবের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সবার আগে গুরুত্ব পাচ্ছে। নিয়মিত মেডিক্যাল টিম তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছে। বাড়ির পরিবেশ রাখা হচ্ছে শান্ত ও নিরিবিলি, রাজনৈতিক আলোচনা সীমিত করা হয়েছে সময় এবং পরিসরে।

মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ১, অ্যানি মার্গ কার্যত পরিণত হয়েছিল জনঅভিযোগ কেন্দ্রে। বিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দৈনিক হাজির হতেন, সাংবাদিকরা সকাল থেকে অপেক্ষা করতেন, আর মন্ত্রীদের প্রবেশাধিকার ছিল নির্বিঘ্ন। পরে ১০, সার্কুলার রোড হয়ে ওঠে রাজনীতির প্রধান কেন্দ্র, বিশেষ করে যখন রাবড়ি দেবী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। উৎসব মানেই ছিল রাজনৈতিক সমাবেশ। সমর্থকদের রাত কাটানোও ছিল নিত্যনৈমিত্তিক।

নতুন বাড়ির কাঠামোগত শৃঙ্খলা আরজেডি-র রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও প্রতীক। দলীয় দৈনন্দিন কাজ, জোট আলোচনা এবং কৌশলগত বৈঠক এখন মূলত বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদবই পরিচালনা করছেন। যদিও লালু যাদব এখনও দলের ভাবাদর্শ ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দু, তবুও বাস্তবিক দায়িত্ব এখন যুব নেতৃত্বের হাতে।

বহু প্রবীণ কর্মীর কাছে এই পরিবর্তন আবেগময়। গণমানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বিশ্বাসী নেতা আজ বয়স, স্বাস্থ্য ও আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে অপেক্ষাকৃত নিভৃতবাসে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিহারের গণভিত্তিক রাজনীতির এক যুগের পরিসমাপ্তির পথে এটি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লালু যাদবের নতুন বাসভবন শুধু ঠিকানার পরিবর্তন নয়—এটি বিহারের রাজনীতিতে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রতীক।