অযোধ্যা, ২৫ নভেম্বর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত আজ অযোধ্যার রাম মন্দিরে ধ্বজা উত্তোলন বা ‘ধ্বজারোহণ’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এটি ছিল রাম মন্দিরের আর্কিটেকচারিক সম্পূর্ণতার ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে মন্দিরের পুরো কাঠামো আধ্যাত্মিকভাবে পূর্ণতা লাভ করে।
ধ্বজা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, যিনি মন্দিরে ২২x১১ ফুট আয়তনের পবিত্র কমলা পতাকা উত্তোলন করেন। এই পতাকায় সূর্যের প্রতীক, ওম এবং কোবিদার গাছের চিত্র আঁকা রয়েছে। কোবিদার গাছটি প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক, যা রঘুকুল বা ইক্ষ্বাকু বংশের পতাকার অংশ। সূর্য প্রতীকটি প্রভু রামের সূর্যবংশের বংশধারার প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই মূহূর্তে বলেন, “এই ধর্ম পতাকা (ধর্ম ধ্বজ) আমাদের জীবনকে প্রেরণা দেবে। জীবন চলে যেতে পারে, কিন্তু প্রতিশ্রুতি কখনও ভঙ্গ করা উচিত নয়।”
ধ্বজারোহণ, যা আধ্যাত্মিকভাবে মন্দিরের কাঠামোকে পূর্ণতা দেয়, এটি “দ্বিতীয় প্রাণ প্রতিষ্ঠা”র মতো এক বিশেষ অনুষ্ঠান, তবে এটি মূলত মন্দিরের কাঠামোকে কেন্দ্র করে। গত বছরের জানুয়ারিতে রাম লল্লা মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠা ঘটানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে দৈনিক পূজা শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ধ্বজা উত্তোলন শেষে উপস্থিত ৮,০০০ জনের সমাবেশে বলেন, “এই ধ্বজা আমাদের শৃঙ্খলা, একতা এবং দেশপ্রেমের বার্তা পৌঁছে দেবে।”
এই পতাকাটি আহমেদাবাদের একটি প্যারাচুট তৈরির প্রতিষ্ঠানে ২৫ দিন ধরে প্রস্তুত করা হয়েছিল। ১১ কেজি ওজনের পতাকাটি প্যারাচুট গ্রেড ফ্যাব্রিক এবং প্রিমিয়াম সিল্ক থ্রেডে তৈরি করা হয়েছে, যা সূর্য, বৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাবে টিকে থাকবে। সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এর স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী মোদী সকালে অযোধ্যায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর পরে, তিনি শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে একটি রোডশো করেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষ তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এই ধ্বজা উত্তোলন অনুষ্ঠানটি ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে, যা রাম মন্দিরের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকে নিশ্চিত করেছে।

