ভগলপুর, ৬ নভেম্বর : বৃহস্পতিবার বিহারের ভগলপুরে নির্বাচনী সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিপক্ষ মহাগঠবন্ধনকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর কটাক্ষ, আরজেডি কংগ্রেসের মাথায় ‘কাট্টা’ (দেশি তৈরি বন্দুক) ঠেকিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রার্থীকে ছিনিয়ে নিয়েছে।
মোদি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে কংগ্রেস নেতারা দাবি করছিলেন, তাদের দল বড়, আর আরজেডি শুধু ছোট সহযোগী। কিন্তু আরজেডি কংগ্রেসের এই অহংকার চ্যালেঞ্জ করেছে। তারা ‘নামদার’-এর (সম্ভবত রাহুল গান্ধীকে ইঙ্গিত) অহংকারকে পরীক্ষা করেছে এবং কাট্টা ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী কেড়ে নিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এবার কংগ্রেস আরজেডি-এর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কংগ্রেসের ‘নামদার’ দীর্ঘ সময় ধরে অনুপস্থিত ছিলেন। কেউ বলছে, তিনি নিজের ইচ্ছায় বিহারে আসেননি; জোর করে আনা হয়েছে। এখন তারা আরজেডি-কে ক্ষতি করতে ব্যস্ত। যারা ক্ষমতার জন্য নিজের সাথীকে বেঁচে দিতে পারে, তারা কখনও বিহারের মঙ্গল কামনা করতে পারে না।
মোদি আরজেডি শাসনের ১৫ বছরের ‘জঙ্গল রাজের’ বিশেষত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কাট্টা’(দেশি বন্দুক), নির্দয়তা, কটুত্ব, কুশাসন ও দুর্নীতি ছিল প্রধান। তিনি আরও বলেন, আরজেডি-এর পাঠ্যক্রমে ‘এ’ মানে অপরাধ (অপহরণ), ‘এফ’ মানে ফিরোতি (মালামাল মুক্তিপণ) আর ‘পি’ মানে পরিবারবাদ।
প্রধানমন্ত্রী ভোটগ্রহণের প্রথম ধাপে মহিলাদের উৎসাহের কথাও তুলে ধরেন। মোদি বলেন, মায়েরা ও বোনেরা বড় উৎসাহে ভোট দিচ্ছেন। বিহারের কন্যারা আজ জঙ্গল রাজ থেকে বিহারকে রক্ষা করতে ভোটকেন্দ্রে দুর্গের মতো দাঁড়িয়েছেন। ভোটকেন্দ্রে তাদের লাইন যেন এক দুর্গ।
তিনি আরও বলেন, বিহারে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। মা-বোনেরা সম্মান পেয়েছেন, তাই আজ তারা ভোটের রেকর্ড ভেঙে বড় সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন। কংগ্রেস ও আরজেডি দশক ধরে শাসন করেছে, কিন্তু কখনও জীবিকা দিদিকে মনে রাখে নি।
বর্তমানে বিহারে নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর। প্রতিপক্ষের মহাগঠবন্ধন (ইন্ডিয়া ব্লক) আরজেডি ও কংগ্রেসের নেতৃত্বে নির্বাচনে তেজস্বী প্রসাদ যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী এবং বিকাশশীল ইনসান পার্টি প্রধান মুকেশ সাহানীকে উপমুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

