নয়াদিল্লি, ২৬ অক্টোবর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার দেশের মানুষকে উদ্দেশ্য করে ‘মন কি বাত’-এর ১২৭তম পর্বে বক্তব্য রাখেন। এই পর্বে তিনি ভারতের উৎসবমুখর আবহ, স্বচ্ছতা অভিযান, পরিবেশ সংরক্ষণ, ভারতীয় সংস্কৃতি, যুবসমাজের ভূমিকা এবং ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মোদি বলেন, “এই সময় দেশজুড়ে দীপাবলি ও ছট পূজার আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।” তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকরা তাঁর পাঠানো চিঠির জবাবে ‘অপারেশন সিন্ধূর’ ও ‘জিএসটি বচত উৎসব’-এর প্রতি ব্যাপক উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। দেশবাসী স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য কেনার ও বিদেশি ভোজ্যতেল ব্যবহার কমানোর যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন, তার জন্যও তিনি প্রশংসা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রদেশে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরেন। ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুরে শুরু হয়েছে অভিনব ‘গারবেজ ক্যাফে’, যেখানে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাবার দেওয়া হয়। বেঙ্গালুরুর প্রকৌশলী কপিল শর্মা ও তাঁর দল ৪০টি কূপ ও ৬টি হ্রদের পুনরুদ্ধার করেছেন এবং বৃক্ষরোপণ অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্পোরেট সংস্থাগুলোকেও যুক্ত করেছেন।
গুজরাটের ধোলেরা ও কচ্ছ অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনায়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, “এই বৃক্ষরোপণের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে; ডলফিন, কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বেড়েছে।” তিনি দেশবাসীকে ‘এক গাছ মায়ের নামে’ অভিযানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় কুকুর প্রজাতির প্রশিক্ষণ ও তাদের নিরাপত্তা বাহিনীতে ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। বিএসএফ ও সিআরপিএফ যে দেশীয় কুকুরদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং তাদের নামের মধ্যেও ভারতীয়তা বজায় রাখছে, তা তিনি প্রশংসা করেন।
তিনি আরও জানান, ৩১ অক্টোবর ভারতের ‘লোহপুরুষ’ সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘রান ফর ইউনিটি’-তে অংশগ্রহণ করে জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।
মোদি তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় কফির প্রসঙ্গ তোলেন। বিশেষভাবে ওডিশার কোরাপুট অঞ্চলের কফির প্রশংসা করে বলেন, “আজ ভারতীয় কফি বিশ্ববাজারে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলছে।”
তিনি আরও বলেন, এ বছর ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০তম বর্ষ পালিত হচ্ছে। মোদি বলেন, “বন্দে মাতরম্ আমাদের মাতৃভূমির প্রতি কর্তব্যবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তোলে।” তিনি নাগরিকদের অনুরোধ করেন, এই ঐতিহাসিক উপলক্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে সবাই যেন তাদের পরামর্শ পাঠান।
প্রধানমন্ত্রী ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংস্কৃতের প্রসঙ্গে বলেন, “ভাষা কোনো সভ্যতার মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের বাহক। আজকের তরুণ প্রজন্ম সংস্কৃত ভাষাকে পুনর্জীবিত করছে, যা অত্যন্ত আনন্দের।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের আদিবাসী বীর — কোমরাম ভীম ও ভগবান বিরসা মুন্ডার জীবন ও আদর্শ তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। তাদের সংগ্রাম থেকে শিখে আমাদের সমাজ আরও শক্তিশালী হতে পারে।”
‘মন কি বাত’-এর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, “আপনার চারপাশে এমন বহু অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তি ও উদ্যোগ রয়েছে — তাদের গল্প আমাদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে সমগ্র দেশ তাদের থেকে প্রেরণা নিতে পারে।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী মাসে নতুন বিষয় নিয়ে আবারও ‘মন কি বাত’-এর পরবর্তী পর্বে দেশের মানুষের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করবেন।
—

