ভারতের সামুদ্রিক শক্তি ও নীল অর্থনীতি মজবুত করতে মুম্বইয়ে শুরু হচ্ছে ‘ভারত সামুদ্রিক সপ্তাহ ২০২৫’

নয়াদিল্লি, ২৬ অক্টোবর : দেশের সামুদ্রিক শক্তি ও ব্লু ইকোনমি আরও শক্তিশালী করতে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ভারত সামুদ্রিক সপ্তাহ ২০২৫’। এই মহা-আয়োজনের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ২৭ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নেস্কো প্রদর্শনী কেন্দ্র। পাঁচ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান চলবে ২৭ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

এই আয়োজনটি যৌথভাবে করছে ভারতীয় বন্দর সংস্থা এবং বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ভারতকে একটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং ব্লু ইকোনমি-কে আরও এগিয়ে নেওয়া। উদ্বোধনী ভাষণে অমিত শাহ ভারতীয় সামুদ্রিক খাতের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ গঠনে এর ভূমিকা তুলে ধরবেন।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, এবং একাধিক উপকূলীয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা — মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফাডনবিশ, গুজরাটের ভূপেন্দ্র পটেল, গোয়ার প্রমোদ সাওয়ন্ত, এবং ওডিশার মোহন চরণ মাঝি। এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি সামুদ্রিক শিল্প, নীতি-নির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও উদ্ভাবকদের এক মঞ্চে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পাঁচ দিনের এই কর্মসূচিতে থাকবে প্রদর্শনী, প্যানেল আলোচনা ও ইন্টার্যাীকটিভ সেশন, যেখানে বন্দর, নৌপরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক প্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ভারতের সামুদ্রিক শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এবং সহযোগিতা ও উদ্ভাবন বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য। এ বছর কর্মসূচির মূল ফোকাস থাকবে ‘স্মার্ট পোর্টস’, ‘ডিজিটাল লজিস্টিকস’ এবং ‘গ্রিন টেকনোলজি’-র উপর। পাশাপাশি, সৌর ও বায়ুশক্তিচালিত জাহাজ ও বন্দর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

ভারত সরকার ইতিমধ্যেই সাগরমালা প্রকল্প, বন্দর আধুনিকীকরণ, এবং গ্রিন শিপিং উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নীল অর্থনীতিকে নতুন গতি দিচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের ১২টি প্রধান বন্দর ৮৭০ মিলিয়ন টন কার্গো সামলেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।

‘ভারত সামুদ্রিক সপ্তাহ ২০২৫’-এ ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ২০০-রও বেশি প্রদর্শক, এবং ৫,০০০-র বেশি দর্শক উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান ভারতীয় সামুদ্রিক শক্তির উত্থান ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।