নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর — আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ঘোষণা করেন, কাবুলে ভারতের কারিগরি মিশনকে দূতাবাসের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি’র ভারত সফর দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা শুধু আফগানিস্তানের জাতীয় উন্নয়নেই নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং সহনশীলতাও নিশ্চিত করে।”
তিনি আরও জানান, ভারত অতীতের প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলির সমাপ্তিতে সহযোগিতা করবে। আফগানিস্তানের উন্নয়নমূলক অন্যান্য চাহিদা সম্পর্কেও আলোচনা হবে।
জয়শঙ্কর বলেন, “কোভিড মহামারীর সময় থেকে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যখাতে ভারতের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এবার আমরা ছয়টি নতুন প্রকল্পে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। সঙ্গে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স উপহার হিসেবে দেওয়া হবে, যার মধ্যে পাঁচটি আজই হস্তান্তর করা হবে।” এছাড়াও আফগান হাসপাতালগুলিতে এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান যন্ত্র সরবরাহ, টিকাদান কর্মসূচির জন্য ভ্যাকসিন এবং ক্যানসারের ওষুধ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
আফগান শরণার্থীদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জয়শঙ্কর বলেন, “তাদের মর্যাদা ও জীবিকা নিশ্চিত করা জরুরি। ভারত তাদের আবাসন গঠনে সাহায্য করবে এবং অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করে পুনর্বাসনেও সহযোগিতা করবে।” একইসাথে তিনি জানান, আফগানিস্তানে খাদ্য সহায়তা চালু থাকবে এবং আজই আরও একটি চালান কাবুলে পৌঁছাবে।
ভারত-আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে উভয়ের আগ্রহ প্রকাশ করে জয়শঙ্কর বলেন, কাবুল-দিল্লির মধ্যে অতিরিক্ত বিমান পরিষেবা চালু হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। আফগান ছাত্রদের জন্য ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি আফগান ক্রিকেটের উন্নয়নে ভারত আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি আফগান যুবকদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন ভিসা মডিউল চালু হওয়ায় এখন চিকিৎসা, ব্যবসা ও শিক্ষার জন্য বেশি সংখ্যক ভিসা প্রদান করা হচ্ছে।”
পাহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ আমাদের উভয় দেশের জন্য হুমকি। এই বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা বাড়াতে হবে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং একাত্মতা প্রকাশ করায় আমরা কৃতজ্ঞ।”
তিনি বলেন, আফগানিস্তানের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আগ্রহের ভিত্তিতে ভারত সহযোগিতা করতে আগ্রহী। আফগানিস্তানে খনিজ অনুসন্ধানে ভারতীয় কোম্পানিগুলিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও প্রশংসনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।



















