ইমফল, ৯ অক্টোবর : মণিপুরে জল জীবন মিশন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। দলটির দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বারবার একই ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যা সরকারি অর্থের অপব্যবহার, তথ্য বিকৃতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির নজরদারির অভাবের ইঙ্গিত দেয়। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস আদালতের তত্ত্বাবধানে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ইনার মণিপুরের সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা এ বিমল আকোইজাম এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন, “আমি জাতিকে জানাতে চাই, মণিপুরে জল জীবন মিশনের আড়ালে একটি বিশাল কেলেঙ্কারি ঘটছে।” তিনি বলেন, ২০১৯ সালের আগস্টে জেএজেএম চালু হওয়ার আগে মাত্র ২৬,০০০টি গ্রামীণ পরিবারে (৫.৭৪%) ট্যাপ জলের সংযোগ ছিল। কিন্তু সরকারের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩,৩৩,৫৩৯টি নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং মোট ৩,৫৯,৪৫৯টি পরিবার (৭৯.৫৯%) ট্যাপ জলের আওতায় এসেছে। এই প্রকল্পে মোট ১,২০২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে ১,০৭৮.৮২ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকার এবং ১২৪.০৩ কোটি টাকা রাজ্য সরকার ব্যয় করেছে।
তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন বলে দাবি করেন আকোইজাম। তিনি বলেন, তৌবুল, নাচৌ, ফুবালা, পাতসোই পার্ট-২, কিয়ামগেই ও ইউরেমবামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও কার্যকর কোনো ট্যাপ জলের সংযোগ নেই। তার দাবি, এই ধরনের অসঙ্গতি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং জেলাজুড়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা—যেখানে তথ্য জালিয়াতি ও তহবিল অপব্যবহার হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সেনাপতি, চান্দেল ও উখরুল জেলার বহু গ্রামকে ‘সম্পূর্ণভাবে জলের আওতায় এসেছে’ বলে সরকারি নথিতে দেখানো হলেও, বাস্তবে সেখানে কোনো পরিকাঠামো নেই এবং নিয়মিত জল সরবরাহও হচ্ছে না।
এই প্রেক্ষিতে আকোইজাম মণিপুর হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি জেলাভিত্তিক অর্থের নিরীক্ষা, সংযোগ সংক্রান্ত সরকারি দাবির যাচাই এবং প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারকে ন্যূনতম প্রতিদিন দুই ঘণ্টা ট্যাপ জল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি এটিকে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জীবনের অধিকার’-এর অংশ হিসেবে চিহ্নিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
———–

