নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.): আর জি কর নিয়ে সোমবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, জুনিয়র ডাক্তার তথা রেসিডেন্ট ডাক্তারদের এবার কাজে ফিরতে হবে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে জুনিয়র তথা রেসিডেন্ট ডাক্তাররা কাজে যোগ দিলে রাজ্য সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
আর জি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারেরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। সোমবার রাজ্যের আইনজীবী দাবি করেন, চিকিৎসকেরা কাজ না করায় ২৩ জন মারা গিয়েছেন। শুনানীর পর সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় মনে করিয়ে দেন, ডাক্তাররা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করতে পারে না। সর্বোচ্চ আদালত তা সমর্থন করবে না। ডাক্তারদের কাজ রোগীদের পরিষেবা দেওয়া।
সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়ে দেন, কিন্তু তার মধ্যে ডাক্তাররা কাজে যোগ না দিলে সরকার শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নিতেই পারে। সেই অধিকার সরকারের রয়েছে। তখন সুপ্রিম কোর্ট কিছু করতে পারবে না।
এদিনের শুরু থেকে বারবার রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, ডাক্তাররা কাজ করছেন না। তার ফলে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬ লক্ষ মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা পায়নি। বিশেষ করে হার্টের অসুখ, ক্যানসারের মতো রোগের জন্য সাধারণ মানুষ সংখ্যায় সরকারি হাসপাতালে আসেন। তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
চিকিৎসকদের তরফে আইনজীবী পাল্টা বলেন, জুনিয়র ডাক্তারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ, মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ, কলকাতা মেডিকেল কলেজে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে কারও অভিভাবক সরকারি চাকরি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে গুণ্ডারা। সুতরাং ডাক্তারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। তা ছাড়া সিনিয়র ডাক্তাররা চিকিৎসার কাজ করছেন। আন্দোলন করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
তা শুনে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা কোনও যুক্তি নয় যে শুধু সিনিয়র ডাক্তাররা আন্দোলন করছেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্য সরকারকে আমরা নির্দেশ দিয়েছি যে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যাপ্ত সংখ্যায় লাগাতে হবে। পুরুষ ও মহিলা চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বিশ্রামকক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। এবং সেই কাজের অগ্রগতি দ্রুত হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নজর রাখতে হবে জেলা শাসকদের।
প্রধান বিচারপতি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিকাঠামো বাড়াতে তহবিল অনুমোদন করা হয়েছে। আমরা চাইছি তা দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু হোক।



















