News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • খোয়াইয়ের বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক সমীর দেব সরকার প্রয়াত
Image

খোয়াইয়ের বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক সমীর দেব সরকার প্রয়াত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/ খোয়াই, ২৮ আগষ্ট৷৷ চলে গেলেন খোয়াইয়ের আধুনিক রূপকার৷ জননেতা এবং ত্রিপুরা রাজ্য বিধানসভার মুখ্যসচেতক সমীর দেবসরকার, আজ তিনি নেই৷ দীর্ঘ রোগ ভোগের পর রবিবার সকাল ৬ টা ২০ মিনিট নাগাদ Samir Deb Sarkarআগরতলা জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোয়াইয়ের বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার সরকার পক্ষের মুখ্য সচেতক সমীর দেব সরকার প্রয়াত হয়েছেন৷ মৃত্যুকালে উনার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর৷ তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন৷ তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে৷ আজ ভোরে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথে মন্ত্রী মানিক দে, শুভানুধ্যায়ীরা অনেকেই জিবি হাসপাতালে ছুটে যান৷ পরে প্রয়াতের মৃতদেহ রাজ্য বিধানসভার প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হলে, সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিধানসভার অধ্যক্ষ রমেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, উপাধ্যক্ষ পবিত্র কর, মন্ত্রী মানিক দে, মন্ত্রী মনিন্দ্র রিয়াং, মন্ত্রী বিজিতা নাথ, বিধায়ক রতনলাল নাথ, বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মন প্রমুখ৷ সেখান থেকে মেলারমাঠস্থিত সিপিআই (এম) এর রাজ্য কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় প্রয়াতের মৃতদেহ৷ এখানে শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যগণ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ৷
সমীর দেব সরকারের মৃত্যুর খবর সকাল সকাল খোয়াইয়ে ছড়িয়ে পড়তেই খোয়াই জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে৷ সকাল থেকেই রাস্তার পাশে এবং সিপিআই(এম) খোয়াই জেলা কার্য্যালয়ের সামনে জনসমুদ্র তৈরী হতে থাকে৷ জনস্রোত দেখেই মনে হয় প্রয়াত সমীর দেবসরকারের জনপ্রিয়তা কতটুকু উচ্চ শিখরে ছিল, আছে এবং থাকবে৷ ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রই সামলাতেন তিনি৷ প্রশাসনের কাজেও ছিলেন মধ্যমনি৷ যেকোন সরকারীপরিকল্পনাই উনি নিজের হাতে তৈরী করতেন এমন নিখুঁতভাবে যে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও অবাক হয়ে যেতেন৷ খোয়াই শহরকে সাজাবার একটা রূপরেখা তৈরী করে রেখেছিলেন তিনি৷ ১৯৯৩ সালের পর থেকেই কিভাবে খোয়াইয়ের দিকে ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তের জনগনকে আকর্ষিত করা যায় সে দিকটায় পারদর্শীতার সাথে পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি৷ যার জ্বলজ্যান্ত প্রমান বহন করে চলছে ত্রিপুরার পর্যটন মানচিত্রে খোয়াইয়ের বনবিথি পার্কের অন্তভুর্ক্তি৷ শুধুমাত্র বনবিথি নয়, জঙ্গল মহল, ঝিলিমিলি ইকো পার্ক, তেলিয়ামুড়া পর্যন্ত অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্র, পার্ক বা বিভিন্ন গলি-পতের রাস্তার নামাকরন সমীর দেবসরকারের দেওয়া৷ বলা চলে সকাল থেকে রাত দুটো পর্যন্ত শুধু কাজ আর কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকা মানুষটা আজ আমাদের মধ্যে নেই৷
রবিবার সকাল থেকে যে জনস্রোত খোয়াইতে দেখা গেল তা দেখে ভাবাই যায়না তিনি নেই৷ অথচ আকাশ-বাতাস যেন কান্নায় ভেঙে পড়ছিল৷ সকাল থেকেই আকাশের মুখ ছিল ভার৷ তারপরও চোখে জল নিয়েই জনস্রোত ছুটে চলে প্রিয় জননেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে বলে৷ তিনি যে যুব থেকে বৃদ্ধ সবার কাছেই ছিলেন একজন অভিভাবক৷ দলমত নিবিশেষে উনার কাছে গিয়ে প্রতিকার পেয়েছেন৷ যতটুকু সম্ভব সমাধানও করেছেন তিনি৷ প্রয়াত বিধায়ক সমীর দেবসরকারের সময়েই খোয়াই শহরে যারা সংবাদ মাধ্যমের সাথে যুক্ত তারা যথাসম্ভব চাকুরী প্রদান করেছেন৷ উনার সময়কালে সংবাদ মাধ্যমের কর্মী এবং তার পরিবার চাকুরী পেয়েছে৷ কারন উনার নজর সব দিকেই ছিল৷ বিশেষ করে গরীব-শ্রমিক -মেহনতি মানুষের প্রতি ছিল সর্বময় চিন্তা৷ আজ তাই গোটা খোয়াই জুরেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ আগামীকাল বাজার ব্যবসায়ীরা ১২ ঘন্টার বাজার বন্ধ রাখার ঘোষনা করেছেন৷
রবিবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে সিপিআইএম খোয়াই বিভাগীয় অফিস এবং খোয়াই সুভাষপার্ক পার্টি অফিসের সামনে অসংখ্য লোকজন জড়ো হতে থাকেন৷ রবিবার সকালে আগরতলায় বিধানসভা ভবন, মেলার মাঠ স্থিত সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির কার্য্যালয় থেকে খোয়াইয়ের দিকে রওয়না হয় প্রয়াত সমীর দেবসরকারের মরদেহ৷ একে একে কার্য্যালয়ের সামনে আসলে সেখানে প্রতিক্ষমান জনতার ঢল নামে প্রয়াত বিধায়ককে অন্তিমবার দেখার সাধ নিয়ে৷ সেখানে দলীয় পতাকা দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিজন ধর, মন্ত্রী খগেন্দ্র জমাতিয়া, বিধানসভার অধ্যক্ষ রমেন্দ্র চন্দ্র নাথ, বিধায়ক মনীন্দ্র দাস, বিধায়ক পদ্মকুমার দেববর্মা, সিপিআই(এম), রাজ্য কমিটির সদস্যদ্বয় বিশ্বজিৎ দত্ত এবং রঞ্জিত দেববর্মা, খোয়াই বিভাগীয় কমিটির সদস্য সুখেন্দু বিকাশ দে, বিধায়ক অঞ্জন দাস, সিপিআইএম তেলিয়ামুড়া মহকুমা সম্পাদক সুধীর সরকার, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য প্রণব চক্রবর্তী, বিজয়লক্ষী সিনহা সহ স্থানীয় নেতৃত্বরা৷ পাশাপাশি কংগ্রেস, আমরা বাঙালি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পুষ্পার্ঘ্য অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়৷ শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করেল বামপন্থী শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠন এবং কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও৷ তারপর একে একে জনঢল উপচে পড়ে ফুল-মালা অর্পন করেন প্রয়াত বিধায়ক সমীর দেবসরকারকে৷
তারপর বিকেলে উনার মরদেহ পৌছায় সিঙ্গিছড়া স্থিত নিজ বাড়ীতে৷ সেখানে পরিবারের লোকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ তারপরর গার্ড অব অনার দিয়ে প্রয়াত বিধায়কের নিজ বাসভবনেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়৷ গার্ড অব অনার দিল ৬ষ্ঠ ব্যাটেলিয়ান টিএসআর, খোয়াইয়ের এসপি, জেলা শাসক মহকুমা শাসক এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা৷ তেলিয়ামুড়া থেকে খোয়াই পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে এক ঝলক দেখার অপেক্ষার দাঁড়িয়ে পড়েছিল অগণিত মানুষের ঢল৷ কান্নায় ভেঙে পড়ে অসংখ্য মানুষ৷ প্রয়াত বিধানসভার মুখ্যসচেতক এবং বিধায়ক সমীর দেবসরকারের জন্ম ১২-১২-১৯৪৯৷ পিতা -প্রয়াত সুরেশ চন্দ্র দেবসরকার, মাতা-প্রয়াত প্রতিভা দেবসরকার৷ ১৯৭১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক পাশ করেন৷ রাজনৈতিক কেরিয়ারের সূচনা পার্টি সদস্যপদ লাভের মধ্য দিয়ে ১৯৭৭ সালেই হয়৷ তারপর সিপিআই(এম) খোয়াই অঞ্চল সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৭৮ সালে, সিঙ্গিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিত হন ১৯৭৯ সালে৷ সিপিআই(এম) খোয়াই অঞ্চল কমিটির সম্পাদক হন ১৯৮১ সালে, সিপিআই এম খোয়াই বিভাগীয় সদস্য হন ১৯৮১ সালেই৷ তারপর ১৯৮৪ সালে সম্পাদকমন্ডলীল সদস্য এবং খোয়াই বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক হন ১৯৮৯ সালে৷ রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরুর ২০ বছর পর ১৯৯১ সালে তিনি সিপিআই এম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সদস্য হন৷তারপর খোয়াই জেলা গঠনের পর ২০১৫ সালে তিনি জেলা কমিটির সম্পাদক হন৷ মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তিনি সারা ভারত কৃষক সভা এবং সিআইটিইউ’র সদস্য ছিলেন৷ ১৯৯২ সালটি বাদ দিলে তিনি ১৯৮৩, ১৯৯৩, ১৯৯৮, ২০০৩, ২০০৮ এবং ২০১৩ সালে পরপর ২৫ খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হন৷ মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন৷ আমৃত্যু তিনি জনগনের জন্য ভাবনা-চিন্তা করে গেছেন৷ আরও কিছু কাজ উনি করে যেতে চেয়েছিলেন, যা অপূর্ণই রয়ে গেল৷
উল্লেখ্য, গত ছয় মাসে ধরে খোয়াইয়ের বিধায়ক সমীর দেব সরকার শ্বাস কষ্ঠ জনিত রোগে ভোগছিল৷ গত ছয়মাসে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি সমীর দেব সরকার৷ গত কিছুদিন আগে চেন্নাই থেকে চিকিৎসা সেরে খোয়াই ফিরেন৷ গত সপ্তাহ কাল আগে ফের শ্বাস কষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয় সমীর দেব সরকার৷ তখনি সমীর দেব সরকারকে নিয়ে যাওয়া হয় জিবি হাসপাতালে৷ শেষ কয়েক দিন ধরে জিবি হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে ছিলেন সমীর দেব সরকার৷ অবশেষে রবিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ জিবি হাসপাতালের ভেন্টিলেশনেই সমীর দেব সরকারের মৃত্যু হয়েছে৷ সমীর দেব সরকারের মৃত্যুর খবর খোয়াইয়ে আসতেই খোয়াই জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে৷

Releated Posts

শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই

নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…

ByByNews Desk Jun 2, 2026

অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…

ByByNews Desk May 27, 2026

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের

কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…

ByByNews Desk May 22, 2026

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…

ByByReshmi Debnath May 20, 2026
Scroll to Top