গুয়াহাটি, ১ জানুয়ারি (হি.স.) : বিদায়ী ২০২৩ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন স্থিতি গ্রহণ করায় ১০৩ জন সরকারি আধিকারিক-কর্মচারী গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের দফতর-বাড়ি-ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অবৈধ ৪.৩৩ কোটি টাকা, জানান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা
আজ ইংরেজি নববর্ষ ২০২৪ সালের প্রথম দিন জনতা ভবনে লোকসেবা ভবন চত্বরে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং সম্পাদকদের সঙ্গে ‘নতুন দিনর বার্তালাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিগতদিনে তার সরকারের কৃত কার্যকলাপ সম্পৰ্কে খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে এই তথ্য পেশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য মামলায় অসমের ধুবড়ি জেলার দুই সরকারি পদস্থ আধিকারিক রয়েছেন। ধুবড়ি জেলা পরিষদের সিইও আসাম সিভিল সার্ভিস (এসিএস) অফিসার জনৈক ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। ওই অভিযানে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বাসভবন থেকে ২.৩২ কোটি নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সম্পত্তি ক্রয় সংক্রান্ত নথি, বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথিও বাজেয়াপ্ত করেছেন দুর্নীতি দমনের আধিকারিকরা।
দুৰ্নীতি বিরোধী অভিযানে পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা এবং একজন চালককে পাকড়াও করা হয়েছে। এই কর্মকর্তারা কামরূপ (মেট্রো), নগাঁও এবং গোয়ালপাড়া জেলায় পৃথক ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। ওই সব জেলায় জমি বিক্রির অনুমতি প্রদান এবং পেনশন ফাইল সংশোধন করার মতো বিভিন্ন পরিষেবার জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।
মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তদন্তকারীদের এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে দুর্নীতি নির্মূলে রাজ্যের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়েছেন।
এছাড়া বিদায়ী বছর ২০২৩ সালে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের উল্লেখযোগ্য হ্রাস হয়েছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মামলার সংখ্যা কমে ৭,৪৫৩-এ নেমেছে। তিনি কথায়, ‘অসমে ২০২৩ সালের অপরাধের পরিসংখ্যান বিচার করলে দেখা যায় ২০২১ সালে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ যদি ৩০ হাজার হয়ে থাকে তা-হলে এই সংখ্যা ৭,৪৫৩-এ নেমে এসেছে। যা সব ধরনের মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের তীব্র হ্রাসকে প্রতিফলিত করে। আরও জানান, ২০২১ সালে মোট অপরাধ ছিল ১,৩৩,০০০, কিন্তু ২০২৩ সালে তা নেমেছে ৬৩ হাজারে। সামগ্রিক অপরাধের হার হ্রাস পেয়েছে শতাংশ, বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা আরও জানান, মাজুলিতে ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনও বিচারাধীন মামলা নেই। কারণ ১০০ শতাংশ মামলার তদন্ত করা হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে তানা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ২০২৬ সালের মধ্যে বর্তমান বছরের সমস্ত অপরাধ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।’



















