নয়াদিল্লি, ১২ ডিসেম্বর (হি.স.) : নির্বাচন কমিশনের ওপর নিয়ন্ত্রণ চায় মোদী সরকার, বলে মঙ্গলবার উল্লেখ করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং রাজ্যসভার সদস্য রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। এদিন তিনি জানান, মোদী সরকার নির্বাচন কমিশনের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। এই কারণেই সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলী ও পদের মেয়াদ) বিল, ২০২৩ এনেছে। এই বিল পাস হলে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় সুরজেওয়ালা একথা বলেন।
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিযুক্তি, পরিষেবার শর্তাবলী এবং অফিসের মেয়াদ) বিল, ২০২৩-এর উপর আলোচনার সময় সুরজেওয়ালা একথা বলেন। তিনি মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশন সাহসিকতা, বিশুদ্ধতা, নিরপেক্ষতা, স্বায়ত্ত্বশাসনের জন্য পরিচিত। এই চারটি শব্দই গণতন্ত্রের ভিত্তি। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। সুরজেওয়ালা বলেন, উপস্থাপিত বিল অনুসারে, কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দ্বারা নিযুক্ত মন্ত্রীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হবে কী করে?
তিনি আরও বলেন, এই আইনে আরেকটি বিধান রাখা হয়েছে। সেটি হল এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার একটি বিশেষ শ্রেণি ছাড়া দেশের অন্য কোনও নাগরিক হতে পারবেন না। এই পদগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের একজন সচিব বা অবসরপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগ করা হবে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন ওঠে যে একজন আমলা যিনি কখনও কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি তাঁকে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রধান করা হচ্ছে কিভাবে? এই আইনের মাধ্যমে আমলাদের এসব পদে শতভাগ সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিলের উপর আলোচনার সময় বিজেপি সাংসদ ঘনশ্যাম তিওয়ারি বলেন, দেশ এমন একটি সময়ও দেখেছে যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সচিব নবীন চাওলাকে নির্বাচন কমিশনার করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সুরজেওয়ালার ভাবা উচিত তিনি কী বলছেন। কংগ্রেসের অতীত সিদ্ধান্তের দিকেও নজর দেওয়া উচিত সুরজেওয়ালার।



















