News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • ইউসুফ কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে বিধানসভায় কাদা ছঁোড়াছুড়িই সার হল, নাকচ হয়ে গেল বিজয়লক্ষ্মীর তদন্তের দাবীও
Image

ইউসুফ কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে বিধানসভায় কাদা ছঁোড়াছুড়িই সার হল, নাকচ হয়ে গেল বিজয়লক্ষ্মীর তদন্তের দাবীও

Bijay Laxmi Sinhaনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ এপ্রিল৷৷ বিমল সিনহা হত্যা সংক্রান্ত ইউসুফ কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে বিধানসভায় আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল৷ তাতে সারবত্তা কিছুই বের হয়নি৷ বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে ইউসুফ কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধী বেঞ্চের সদস্যদের মধ্যে কেবল কাদা ছোঁড়াছঁুড়ির ঘটনা লক্ষ্য করা গেল৷ বিমল সিনহা হত্যাকান্ডে প্রকৃত দোষী চিহ্ণিত করার জন্য কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি৷ প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমল সিনহার স্ত্রী বিধায়িকা বিজয় লক্ষ্মী সিনহা বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর স্বামীকে হত্যার প্রকৃত আসামী কে তা খঁুজে বের করার জন্য এবং বিচারের আবেদন জানালেও রহস্য উন্মোচনে কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি৷ বিরোধী বেঞ্চের সদস্যরা বার বার সরকারপক্ষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিমল সিনহা হত্যা মামলায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানালেও সেই দাবি এদিন নস্যাৎ করে দেওয়া হয়৷ আইনমন্ত্রী তপন চক্রবর্তী এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিমল সিনহা হত্যা মামলায় কংগ্রেসকেই নিশানা করেন এবং বিরোধীদের সিবিআইয়ের দাবি খারিজ করে দেন৷ ফলে, এদিন বিমল সিনহা হত্যা সংক্রান্ত ইউসুফ কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা শেষে প্রকৃত রহস্য হিমঘরে চাপা পড়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল৷
বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাজেট প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর শুরু হয় প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমল সিনহা এবং তার ভাই বিদ্যুৎ সিনহা হত্যা মামলায় ইউসুফ কমিশনের রিপোর্টের ওপর আলোচনা৷ এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী বেঞ্চের তরফে বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায় বর্মণ এবং বিধায়ক রতন লাল নাথ রাজ্য সরকারকে রীতিমত কাঠগড়ায় দাঁড় করান৷ অপরদিকে, বিধায়িকা বিজয়লক্ষ্মী সিনহা, আইনমন্ত্রী তপন চক্রবর্তী এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমল সিনহা ও তার ভাই বিদ্যুৎ সিনহার হত্যার সাথে কংগ্রেসের যোগাযোগ রয়েছে বলে জোর সওয়াল করেন৷ এদিন, বিরোধী দলনেতা এবং বিধায়ক রতন লাল নাথ ইউসুফ কমিশনের রিপোর্ট তুলে ধরে প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে উগ্রপন্থীদের যোগাযোগ এবং তার মৃত্যুর জন্য পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা দায়ী বলে দাবি করেন৷ পাশাপাশি বিমল সিনহা হত্যার সাথে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করান৷ এই হত্যা মামলায় সিআইডি রিপোর্টে ঘাটতি এবং কমিশনের কাছে এসআইটি কোন রিপোর্ট জমা না দিয়ে অসহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছিলেন বিরোধী বেঞ্চের সদস্যরা৷ এমনকি রাজ্য সরকারের তরফে যে অ্যাকশন টেকান রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে তাতে কোথাও কমিশন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ এনেছে তা খন্ডন করা হয়নি বলে মন্তব্য করে বিরোধী দলনেতা বলেন, তাতে প্রমাণিত কমিশন যে সমস্ত অভিযোগ এনেছে তা সত্য৷ এদিন, বিরোধী বেঞ্চের সদস্যরা ট্রেজারি বেঞ্চের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলতে শুরু করলে সভা উভয় পক্ষের হই হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ বারে বারেই ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগের বিরোধিতায় সরব হন৷ তাতে মাঝে মধ্যেই সভায় ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধী বেঞ্চের সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাকবিতন্ডা হয়৷ এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ও আইনমন্ত্রী তপন চক্রবর্তীও বিরোধী দলনেতা এবং বিধায়ক রতনলাল নাথের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন৷ তাদের সকলকেই প্রচন্ড উত্তেজিত হতেও দেখা যায়৷
এদিন, আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়িকা বিজয়লক্ষ্মী সিনহার স্পষ্ট দাবি রাজনৈতিক কারণে জনপ্রিয় নেতা প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমল সিনহার সাথে সন্ত্রাসবাদীদের যোগাযোগ ছিল বলে প্রচার করা হচ্ছে৷ তিনি স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস নিজেদের কলঙ্ক ঢাকতে বিমল সিনহার নামে অপপ্রচার করছে৷ শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে জড়িয়েও অপপ্রচার শুরু করেছে কংগ্রেস৷ এদিন তিনি দাবি করে বলেন, প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমল সিনহাকে হত্যায় তদন্ত করে প্রকৃত আসামী খঁুজে বের করা হোক৷
এদিকে, আইনমন্ত্রী তপন চক্রবর্তী বিমল সিনহা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে খুন হয়েছেন বলে দাবি করেন৷ পাশাপাশি তার আরো দাবি কমিশনের রিপোর্টে কোথাও রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনে প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হত্যার জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেনি৷ তার স্পষ্ট বক্তব্য, সিপিএম নয় রাজ্যে কংগ্রেসই সন্ত্রাসবাদের জন্মদাতা৷ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও কংগ্রেসকেই সন্ত্রাসবাদের জন্মদাতা হিসেবে দাবী করেছেন৷ এদিন, আইনমন্ত্রী তপন চক্রবর্তী বিরোধী দলনেতাকে তার চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণ করতে পারেননি৷ ফলে, অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় চ্যালেঞ্জ মোতাবেক সুদীপ রায় বর্মণকে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করার দাবি জানান আইনমন্ত্রী৷

Releated Posts

ডেপুটেশন ঘিরে কৈলাসহর কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘাত, অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ

কৈলাসহর, ২ সেপ্টেম্বর: ডেপুটেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে কৈলাসহর কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ত্রিপ্রা ইন্ডিজিনিয়াস…

ByByReshmi Debnath Sep 2, 2026

ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে বিলোনিয়ায় সিপিআই(এম)-এর ২১ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ২ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ত্রিপুরার তিনটি ব্লকে মোট ২১টি আসনে…

ByByReshmi Debnath Sep 2, 2026

প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করছে ত্রিপুরা, নজরদারিতে ৫১৫ সিসিটিভি

আগরতলা, ৩১ আগস্ট: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করছে ত্রিপুরা…

ByByTaniya Chakraborty Aug 31, 2026

ভেজাল ক্যান্সারের ওষুধকাণ্ডে সরব ত্রিপুরা কংগ্রেস, সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন প্রবীর চক্রবর্তীর

আগরতলা, ৩০ আগস্ট: দিল্লিতে ভেজাল ক্যান্সারের ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল ত্রিপুরা প্রদেশ…

ByByReshmi Debnath Aug 30, 2026
Scroll to Top