News Flash

Image

কাছাড় জেলা সদর শিলচরে শুরু বিশ্বহিন্দু পরিষদের ১০ দিবসীয় বর্গ


শিলচর (অসম), ১৪ মে (হি.স.) : বিশ্বহিন্দু পরিষদ দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তের দশ দিবসীয় বর্গ শুরু হয়েছে। আজ রবিবার রাত সাড়ে সাতটায় কাছাড় জেলা সদর শিলচরে মধুবন গেস্ট হাউসে দীপমন্ত্রের মাধ্যমে প্রদীপ প্রজ্বলন করে দশ দিবসীয় প্রশিক্ষণ বর্গের উদ্বোধন করেন উপস্থিত সম্মানিত অতিথিরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজীব মোহন পন্থ। তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্বহিন্দু পরিষদের ক্ষেত্র সংগঠন মন্ত্রী ড. দীনেশ কুমার তিওয়ারি, বিশ্বহিন্দু পরিষদের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত সভাপতি শান্তনু নায়েক এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট শিবব্রত দত্ত। পরিচয় পর্বের পর অতিথিদের বরণ করা হয়।
শিবব্রত দত্তের পৌরোহিত্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন ক্ষেত্র সংগঠন মন্ত্রী ড. দীনেশ কুমার তিওয়ারি। সমগ্র হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করে বিশ্বহিন্দু পরিষদের স্থাপনা হয়েছিল বলে সংগঠনের উদ্দ্যেশ্য ও কার্যপ্রণালী বর্ণনা করেন তিনি। গো রক্ষা, গো বিজ্ঞান, কীভাবে সাবলম্বী হওয়া যায় ইত্যাদি নানা বিষয়ে এই বর্গে অবগত করানো হবে। সংগঠনের বিষয়ে অবগত হওয়ার এটা হলো প্রাথমিক বর্গ।
তিনি বলেন, বিশ্বহিন্দু পরিষদ সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন। বৌদ্ধিকের মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারব। অনুশাসন সহ নানা বিষয়ে আমরা পারদর্শী হতে পারব। এর জন্য এই বর্গ। উত্তরপূর্বে এ নিয়ে তৃতীয় প্রশিক্ষণ বর্গ চলছে বলে জানান ক্ষেত্র সংগঠন মন্ত্রী দীনেশ কুমার তিওয়ারি। আচার আচরণ, বর্গের নীতি নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথি অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজীব মোহন পন্থ বলেন, চক্রবর্তী সম্রাট ভরতের নাম দিয়ে আমাদের দেশের নামকরণ করা হয়েছে বলে গর্বিত তিনি। মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরাম হলেন আমাদের আদর্শ। আমাদের সমাজকে অনেকে ভাঙার চেষ্টা করে বিফল হয়েছেন। আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, আজও বিশ্বের সবচেয়ে পুরাতন সংস্কৃতি। কিছু সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হলেও অধিকাংশ আজও বিদ্যমান রয়েছে। ভদ্রতা বা সরলতা মানে আমাদের দুর্বলতা নয়, বরং এটা প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়, বলেন উপাচার্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি শিবব্রত দত্ত বলেন, ভারতবর্ষ হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে আমাদের মতবাদে চলতে হবে, কারণ আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কারও ক্ষতি চাই না।

উল্লেখ্য, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম, দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকা এবং ডিমা হাসাও জিলা নিয়ে বিশ্বহিন্দু পরিষদের সাংগঠনিক দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত গঠিত। রবিবার ১৪ মে থেকে এই প্রশিক্ষণ বর্গ শুরু হয়েছে। যা আগামী বুধবার ২৪ মে পর্যন্ত চলবে। ১০ দিবসীয় বিশ্বহিন্দু পরিষদের বর্গে প্রান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে ৭১ জন অংশগ্রহণ করেছেন।

আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলচরের প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ পাল, বিশ্বহিন্দু পরিষদের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত সংগঠন মন্ত্রী পূর্ণচন্দ্র মণ্ডল, সম্পাদক স্বপন শুক্লবৈদ্য, গোপীব্রত গোস্বামী, দিলীপ দে, চন্দ্রা দাস, পাপিয়া চক্রবর্তী সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিঠুন নাথ, রথীশ দাস প্রমুখ। এছাড়া ভিএইচপি সহ বিভিন্ন সংগঠনের সনাতনী পুরুষ মহিলা উপস্থিত ছিলেন আজ। এদিন বিশ্বহিন্দু পরিষদের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত প্রচার ও প্রসার প্রমুখ শমীন্দ্র পাল এক প্রেসবার্তায় এ খবর জানিয়েছেন।

Releated Posts

গুয়াহাটিতে বিএআরও বৈঠক, পূর্বাঞ্চলের সড়ক প্রকল্পে গতি আনতে রূপরেখা চূড়ান্ত

গুয়াহাটি, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও চলতি অর্থবর্ষের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন…

ByByNews Desk Apr 30, 2026

সিকিমে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা, উত্তর-পূর্বকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ বললেন মোদি

গ্যাংটক, ২৮ এপ্রিল (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার সিকিমে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও…

ByByNews Desk Apr 28, 2026

গ্যাংটকের রাস্তায় উপচে পড়া ভিড়, মোদির রোডশো ঘিরে উৎসবের আমেজ

গ্যাংটক, ২৭ এপ্রিল (আইএএনএস): সিকিমের রাজ্যত্বের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গ্যাংটকে…

ByByNews Desk Apr 27, 2026

মণিপুর হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে ৯৪৭ কোটির বেশি বরাদ্দ কেন্দ্রের

ইম্ফল, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): মণিপুরে জাতিগত হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য ৯৪৭ কোটিরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে…

ByByNews Desk Apr 26, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top