আগরতলা, ৩ মার্চ (হি. স.) : ত্রিপুরায় সপ্তম বেতন কমিশন এবং শেষ মুহুর্তে ১২ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়েও সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মন জয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। অন্তত, পোস্টাল ব্যালটের ভোটের হারে এমনটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অবশ্য, ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনেও পোস্টাল ব্যালট বিজেপির বিরুদ্ধেই গিয়েছে। তেইশের বিধানসভা নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ৬৩৪৮০ টি সংগ্রহ হয়েছে। তাতে, ২৩০০৬টি ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেছে।
ইভিএমের পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালট প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ গুরুত্ব বহন করে থাকে। অনেকক্ষেত্রে দেখা গেছে, পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোট দুই প্রার্থীর মধ্যে জয়ের ব্যবধান তৈরি করে দিয়েছে। অবশ্য, তেইশের বিধানসভা নির্বাচনে এমন কোন নজির চোখে পড়েনি। কিন্তু, পোস্টাল ব্যালটে ভোটের হার রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চিন্তাধারার বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে।
নির্বাচনের কমিশনের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, পোস্টাল ব্যালটে ৬৩৮৪০টি ভোট সংগ্রহ হয়েছে। তাতে, বিজেপি ২৩০০৬টি, কংগ্রেস ৫৫৯০টি, সিপিএম ১৯৫৭৮টি, তিপরা মথা ১৪০৭৭টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৩টি, নোটা ৫৭৯টি এবং অন্যান্য ৭১৭টি ভোট পেয়েছে। এই ছবি স্পষ্ট করে দিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানকারীদের বড় অংশ বিজেপির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল, টাকারজলা কেন্দ্রে বিজেপি পোস্টাল ব্যালটে মাত্র ২৯টি ভোট পেয়েছে। সেই তুলনায় সিপিএম ৫০টি এবং তিপরা মথা সর্বোচ্চ ১০৩৩টি ভোট পেয়েছে। তেমনি, আশারামবাড়ি কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটে বিজেপি ৩২টি ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, সিপিএম ৯২টি এবং তিপরা মথা ৫০৯টি ভোট পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের মন জয়ে আগামী পাঁচ বছর বিজেপিকে বাড়তি কসরত করতে হবে।



















