রামপুরহাট, ২১ ডিসেম্বর (হি. স.) : হাসপাতালের ভিতর থেকে সদ্যোজাত চুরির ঘটনায় চরম উত্তেজনা। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার মুরারই থানার বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে সন্তান সম্ভবা লক্ষী বিবি কে ভর্তি করা হয় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে। ওই দিনই তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন গৃহবধূ লক্ষী বিবি ।তার দেখভালের জন্য সঙ্গে ছিলেন লক্ষীর মা রওশনা বিবি। বুধবার সকালে রওশনা বিবি চা আনতে হাসপাতালের বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা এসে গৃহবধূ কে জানান, শিশুর দিদা বাচ্চাটিকে নিয়ে বেরোতে বলেছেন। তাই তিনি শিশুকে নিয়ে দিদার কাছে পৌঁছে দিতে এসেছেন। তারপর থেকেই আর কোনও খোঁজ নেই শিশুর।শিশুর দিদা চা নিয়ে ফিরে এসে দেখেন শিশুটি নেই। শিশুর খোঁজ শুরু করেন মহিলার পরিজনদের।হাসপাতাল জুড়ে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় উত্তেজনা। খোঁজাখুজি শুরু করেন। জানানো হয় হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সদের। কিন্তু শিশু বা অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা— কারওই খোঁজ পাওয়া যায়নি।গৃহবধূর মা রওশনা বিবি বলেন, “আমি সকালে চা বিস্কুট কিনতে গিয়েছিলাম। মেয়ের পেটে ব্যাথা। তাই শুয়েছিল। ফিরে এসে দেখি সদ্যজাত নাতি নেই। মেয়েকে জিজ্ঞাস করলে বলে একজন মহিলা এসে বললো তুমি নিয়ে যেতে বলেছো। আমি তো হতবাক “।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে কী ভাবে এক জন মহিলা প্রসূতি বিভাগে ঢুকে শিশু চুরি করলেন তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালের গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন শিশুর পরিজনেরা। খবর পেয়ে প্রসূতি বিভাগে যান হাসপাতালের ‘মেডিক্যাল সুপারিনটেনড্যান্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপাল’
(এমএসভিপি) পলাশ দাস বলেন , “আমরা খবর পেয়ে প্রসূতির কাছে যাই। তার মুখ থেকে সমস্ত কথা শুনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এমন ঘটনা কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা নিজেদের মতো করে তদন্ত শুরু করেছি। সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে”।
রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, “আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি। হাসপাতাল থেকে ফোন খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছি। তবে হাসপাতালের বেশ কয়েকটি সিসি টিভি অকেজো। যেকটি সচল রয়েছে তার ছবি সংগ্রহ করে তদন্ত চালাচ্ছি। দেখা যাক কি হয়”।

