প্রাথমিক শিক্ষক ভিক্টর দাসকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল শিক্ষা দফতর

গুয়াহাটি, ২০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : আসাম ডাইরেক্ট রিক্রুটমেন্ট এগজামিনেশন (এডিআরই)-এ দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে বলে সোশাল মিডিয়ায় ‘অপপ্রচার’ চালানোর দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ভিক্টর দাস। তাই অনুশাসন আইনের অধীনে এবং ৪৮ ঘণ্টার বেশি পুলিশি হেফাজতে থাকার জন্য ভিক্টর দাসকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। এদিকে ভিক্টর দাসকে অনুশাসন আইনের অধীনে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্ৰী ডা. রণোজ পেগু।
গুজব ছড়ানো এবং আবেদনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার দায়ে ভিক্টর দাসকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি, ১৫৩, ১৫৩এ, ৩৮৪ এবং ৫০৫ ধারায় অভিযুক্ত করে গত ৯ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল। এডিআরই-এর অধীনে চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির পরীক্ষায় ‘তিন থেকে আট লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে’ বলে প্রমাণ দিতে বলা হয়েছিল তাঁকে। তিনি দুর্নীতি সম্পর্কে কোনও তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে কয়েকদিন শুনানি পর্বও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইত্যবসরে গৌহাটি হাইকোর্টে এক আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভিক্টর দাসকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় উচ্চ আদালত।
উল্লেখ্য, ভিক্টর দাস গুয়াহাটিতে দুটি কোচিং ইনস্টিটিউট পরিচালনা করেন। এগুলির একটি রাজগড়ে এবং অন্যটি মালিগাঁওয়ে, উভয়েরই নাম স্বারডেমি। ভিক্টর পূর্ব পানিতেমা রাধাকৃষ্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকও। এছাড়া তিনি একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অনলাইন কোচিং প্রদানও করেন।
ভিক্টর দাসকে কোচিং বা টিউশন করার জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে নাকি? এ ব্যাপারে স্পষ্ট করেছেন শিক্ষামন্ত্ৰী ডা. রণোজ পেগু। সমগ্ৰ শিক্ষা অভিযানের কাৰ্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্ৰী ডা. পেগু বলেন, ভিক্টর দাসকে অনুশাসন আইনে অধীনে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের জিম্মায় ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকলে বরখাস্তের যে নিয়ম, সে অনুযায়ীই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোচিং বা টিউশন করার জন্য তাঁকে বরখাস্ত করা হয়নি। এটা ভুল খবর, বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্ৰধানশিক্ষকের এক রিপোর্টের ভিত্তিতে কামরূপ জেলা প্ৰাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের নিৰ্দেশে ভিক্টরকে বরখাস্ত করা হয়েছে।