রাজধানী আগরতলায় আটক কুখাত চোর, উদ্ধার প্রচুর স্বর্ণালঙ্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর ৷৷ রাজধানীর আগরতলা শহর ও শহরতলী এলাকায় চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম উবে ওঠার উপক্রম৷ রাত জেগে পাহারা দিয়ে জীবন সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন সাধারণ মানুষ৷ বিভিন্ন গলিতে প্রতিরাতে পাহারা দেওয়া হচ্ছে৷ চুরি ছিনতাই ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিহত করতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনগণে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে৷ এদিকে মঙ্গলবার সকালে জনতার হাতে আটক হয়েছে এক কুখ্যাত চোর৷ তাকে চন্দ্রপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে৷ উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগে রামনগর এক নম্বর রোডে ফ্ল্যাটে চুরি করে চোরকে পালিয়ে যেতে দেখেছে সকলে৷ সেই চুরি কান্ডের পর এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পুলিশ চোরের হদিস করতে পারেনি৷  সিসিটিভি এবং পাশের বাড়ির মোবাইলে তোলা ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল চোরকে৷ শেষে  বাড়ির লোকের প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার চন্দ্রপুর থেকে সেই  চোরকে আটক করে নিয়ে আসা হয় রামনগর ওই ফ্ল্যাটের ছাদে৷ খবর দেওয়া হয় পুলিশকে৷ পুলিশ এসে চোরকে নিয়ে যায়৷ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, রাজধানীর রামনগর ১ নম্বর রোড এলাকার ফ্ল্যাটে সম্প্রতি চুরির ঘটনা মূল পান্ডাকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় মঙ্গলবার৷ তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া সামগ্রীর সন্ধান পেয়েছে পুলিশ৷ জানা যায়, সম্প্রতি ফ্ল্যাট থেকে চুরি হওয়ার পর সিসি ক্যামেরা রেকর্ড তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে৷ কিন্তু পশ্চিম থানার পুলিশ কোন অভিযুক্তকে জালে তুলতে পারেনি৷ অবশেষে ফ্ল্যাটের মানুষ সোর্স মোতাবেক সন্ধান পায় সুমন মিয়ার৷  সুমন মিয়ার গতিবিধির উপর নজর রাখে ফ্ল্যাটের মানুষ৷ সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিম থানার পুলিশের হাতে সুমন মিয়ার পুরো তথ্য সিসি ক্যামেরা রেকর্ড সহ যাবতীয় তথ্য তুলে দেয় ফ্ল্যাটে বসবাসকারীরা৷ তারপর রাতের বেলা পুলিশ সুমন মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালালেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷ কিন্তু সাধারণ মানুষ সোমবার রাত থেকে তার বাড়ির আশেপাশে থেকে সুমন মিয়ার দিকে তীক্ষ্ন নজর রাখে৷ মঙ্গলবার সকালে সুমন মিয়া গাড়িতে করে দক্ষিণ রামনগর থেকে চন্দ্রপুর যাওয়ার সময় আটক করতে সক্ষম হয়৷ অভিযুক্ত চোর সুমন মিয়া চুরির ঘটনা স্বীকার করে জানায়, সেদিন রাতের বেলা সে বাড়ি থেকে বের হয়ে শাহিন মিয়া এবং ইসমাইল মিয়ার কথা অনুযায়ী চুরির ঘটনায় হাত লাগায়৷
ফ্ল্যাট থেকে স্বর্ণালংকার ও গহনা চুরি করে রাজধানীর হাওড়া ব্রিজ সংলগ্ণ এলাকায় এসে চুরি যাওয়া সামগ্রী নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে৷ নিজ ভাগে পাওয়া বিভিন্ন সামগ্রি দক্ষিণ রামনগর স্থিত তার ভাড়া বাড়িতে রয়েছে বলে জানায়৷ সে আরো বলে তাদের গ্যাং -এর শাহীন মিয়া এবং ইসমাইল মিয়ার বাড়ি বাংলাদেশে৷ তারা শহরে রিক্সা চালিয়ে মানুষের বাড়িতে কিভাবে চুরি করা যায় তার দিশা খুঁজে৷ তারা এলাকার মামন মিয়ার বাড়িতে থাকে বলে জানায় ধৃত চোর৷ পুলিশকে এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করার জন্য জনগণের তরফ থেকে দাবি জানানো হয়েছে৷