করিমগঞ্জ জেলায় মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারীদের বিক্ষোভ প্রদর্শন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকপত্র

করিমগঞ্জ (অসম), ২৫ আগস্ট (হি.স.) : পারিতোষিক বর্ধিত করা সহ বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সারা অসম মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারী ইউনিয়ন সমগ্র রাজ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এর‌ই অঙ্গ হিসেবে করিমগঞ্জ জেলার মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারীরাও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে করিমগঞ্জ জেলা সদর কাঁপিয়ে তুলেছেন। রাজ্য সরকার মধ্যাহ্ন ভোজন প্রকল্পকে অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন নামে এক বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে চাইছে। এর আগেও পূর্বতন বিজেপি সরকারের আমলে একবার এই প্রকল্পকে অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরূপ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল রাজ্য সরকার।

কিন্তু রাজ্যের মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের চাপে পড়ে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল বলে মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারীরা দাবি করেন। বর্তমান সরকার এই প্রচেষ্টা পুনরায় আবার শুরু করেছে। তাছাড়া সরকার রাজ্যের মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীদের নামেমাত্র মাসোহারা দীর্ঘ সাত মাস ধরে বন্ধ করে রেখে দিয়েছে। মধ্যাহ্ন ভোজন প্রকল্পের বেসরকারীকরণ কোনও অবস্থায় মেনে নেওয়া যাবে না। পারিতোষিক বর্ধিত করতে হবে। মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারীদের প্রতি সরকারের বৈষম্যমূলক ব্যবহার কোনও অবস্থায় মেনে নেওয়া যাবে না। এই সকল দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলার মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারীরা সীমান্ত শহর কাঁপিয়ে তুলেন। দেশের অন্যান্য রাজ্য সরকার মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীদের মাসিক সাতহাজার টাকা পারিতোষিক সহ উৎসব ভাতা প্রদান, বিমার ব্যবস্থা করছেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন অসম সরকার রাজ্যের রন্ধন কর্মীদের বছরে দশমাস হিসাবে ১৫০০ টাকা ভাতা দিচ্ছে, তা-ও অনিয়মিত।

তাছাড়া স্কুলগুলি সংযুক্তিকরণের ফলে অসংখ্য মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীদের কাজ হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর‌ই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কার্যালয়ের সম্মুখে একযোগে আজ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয় ছাড়াও মহাকল, রামকৃষ্ণনগর, পাথারকান্দি খণ্ড প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করে সারা আসাম মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারী ইউনিয়নের জেলা শাখা। সকাল ১১টা নাগাদ কালীবাড়ি রোড থেকে মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীরা এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

শহরের প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে মিছিলটি নীলমণি রোডে অবস্থিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়ের সম্মুখে এসে জড়ো হয়। সেখানে মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মীরা তুমূল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে চার দফা দাবি সংবলিত এক স্মারকপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষ আধিকারিকের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারীরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়ের সম্মুখে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নেতৃত্বে ছিলেন সারা অসম মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারী ইউনিয়নের করিমগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মৃন্ময় দাস, করিমগঞ্জ খণ্ড কমিটির সম্পাদিকা বাহারুন্নেসা, আরতি দেব, শ্রমিক নেতা কালিপদ নাথ, কালিপদ রায় প্রমুখ। অনুরূপ ভাবে এদিন জেলার অন্যান্য প্রাথমিক খণ্ড শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়ের সম্মুখেও মধ্যাহ্ন ভোজন কর্মচারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মহাকল খণ্ড শিক্ষা কার্যালয়ের সম্মুখে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নেতৃত্ব দেন রুকিয়া খানম, ছয়গুন্নেসা, বাবলি দাস, রুমি দাস, লক্ষী ঘোষ। পাথারকান্দিতে নেতৃত্বে ছিলেন মহিতোষ ভট্টাচার্য, জয়া দে, রত্না দাস, অর্চনা ঘোষ। রামকৃষ্ণনগর প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের অফিসে নেতৃত্বে দেন ইউনিয়নের জেলা সম্পাদিকা রুমা ধর, জ্যোতির্ময় নাথ প্রমুখ।