নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ১৫ জুন৷৷ জলে ডুবে নাবালিকার রহস্য মৃত্যুর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসলেও আসল রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ পুলিশ৷ ন্যায় বিচারের আশায় মৃতার পরিবার৷
গত ৩১ শে মে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি থানাধীন খাদিমপাড়া এলাকার খোদেজা বেগমের নাবালিকা মেয়ে জায়েদা বেগমের৷ মৃতার পরিবার এই ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মেনে নিতে নারাজ৷ এনিয়ে মামলাও হয়েছিলো চুরাইবাড়ি থানায়৷ক্রেশার মালিক নেজাম উদ্দিন সহ তার ক্রেশারে স্থায়ী কাজের দায়িত্বে থাকা ফাতিমা বিবির বিরুদ্ধে সন্দেহজনক মামলা করেছিল মৃতার পরিবার৷যদিও পুলিশ এখনো এই ঘটনার কোন কুল কিনারা করতে সক্ষম হয়নি৷তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই তারা এই ঘটনার তদন্তে নামবে৷এদিকে মৃতার পরিবারের অভিযোগ নাবালিকা মেয়েটিকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে৷তারা সুষ্ঠু তদন্ত ক্রমে ন্যায় বিচার আর্জি জানিয়েছেন৷সন্দেহভাজন দুজনের নামে তারা মামলাও রজু করেন চুরাইবাড়ি থানায়৷ পুলিশ পক্সো ধারায় মামলাও রুজু করেছে৷বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়৷ ঘটনার প্রায় পনেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইতিমধ্যেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে৷ যে পাথর ক্রেশার তথা কোয়াড়ীতে মৃত নাবালিকা জায়েদা বেগম কাজ করত সেখানকার দায়িত্বে থাকা ফাতিমা বিবির দেওয়া বয়ানে অনেকটাই ইংগিত বহন করছে৷জানা যায় তার বাড়ি নদিয়াপুর শনিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই নং ওয়ার্ড এলাকায়৷তাকে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়,ঘটনার দিন নাবালিকা মেয়েটিকে সে বাড়ি থেকে ফোন করে এনেছিল ঠিক,কিন্তু কাজ শেষে যখন স্নান করতে যায় তখন তাকে স্নানে যাওয়ার কথা বলে ফাতিমা৷জবাবে মেয়েটি বলে মাসি তুমি যাও আমি পরে আসছি৷এই বলে সে স্নান করতে চলে যায় অন্যত্র একটি জলাশয়ে৷তখন ক্রেশার মালিক নেজাম উদ্দীনও সেখানে ছিলো না বলে তার বক্তব্য৷স্নানে যাওয়ার সময় ফাতিমা নাবালিকাকে ক্রেশারের অফিস ঘরের বারান্দায় রেখে যায়৷তখন বাইরে বোল্ডার ফাটানো অর্থাৎ চেলি করার কাজে ছিলো নাজিম ওরফে ডাইল নামের এক ব্যক্তি৷তাছাড়া পাশের ক্রেশার থেকে বোউল চালক অনল পাল নামে অন্য এক যুবক তাদের ক্রেশারে আসছিলো৷জানা যায়, তাদের দুজনেরই বাড়ি আসামের করিমগঞ্জ জেলায় বলে জানা যায়৷মাত্র আধঘন্টা সময়ের মধ্যেই ফাতিমা স্নান সেরে ফিরে এসে দেখতে পায় পাশেরই একটি জলাশয়ে লোকজন জড়ো হয়ে নাবালিকা মেয়েটির মৃত দেহ খুঁজছিলো৷সে আর কিছুই জানেনা বলে দাবি করে৷তবে তার চোখে মুখে ছিলো আতঙ্কের ছাপ৷এদিকে পাথর চেলি করার কাজে নিযুক্ত নাজিম ওরফে ডাইল নামের যুবকটি ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ৷তার মোবাইল ফোনও নাকি সুইচ অফ রয়েছে৷ অপর দিকে পাশের ক্রেশারে কাজের দায়িত্বে থাকা দুই শ্রমিক বাসু নাথ ও প্রানতোষ নাথ জানান,ঐ দিন তারা যখন কাজ করছিলেন তখন তারা দূর থেকে দেখতে পান পাশের জলাশয়ের দিকে একটি মেয়ে স্নান করতে যাচ্ছিলো৷কিন্তু তারা ঠিক চিনতে পারেননি কে স্নান করতে গিয়েছিল৷তার কিছুক্ষণ পরই বোউল চালক অনল পালকে তারা জলাশয়ের দিকে যেতে দেখেন৷ পাশাপাশি সংবাদকর্মীরা স্থানীয় প্রতিবেশী প্রানেশ নাথ সহ এলাকার টুকটুক চালক অভিজিৎ সিং নামের এক যুবকের কাছ থেকে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান,এটি পরিকল্পিত হত্যা না আত্মহত্যা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে৷তবে ঐ ফাতিমা বিবিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালালে আসল রহস্য পাওয়া যেতে পারে৷তবে তাদের দেওয়া বয়ান ও ফাতিমা বিবির বয়ানে এটাই স্পষ্ট যে, ঐ ক্রেশারে কাজের দায়িত্বে থাকা ফাতিমা বিবি এবং পাথর চেলি করার কাজে থাকা পলাতক নাজিম ওরফে ডাইলকে পুলিশ আটক করে জোর জিজ্ঞাসাবাদ চালালে বেরিয়ে আসতে পারে মূল অপরাধীদের নাম৷সাথে খাদিম পাড়া এলাকার মানুষ ও ক্রেশার মালিক চাইছেন এই ঘটনা যদি জলে ডুবে স্বাভাবিক মৃত্যু না হয়ে পরিকল্পিত খুন হয়ে থাকে, তবে পুলিশ দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি প্রদান করুক৷ন্যায় বিচার পাক মৃত নাবালিকা জায়েদা বেগমের পরিবার৷এখন দেখার বিষয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পুলিশ এই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে কতটুকু সক্ষম হয়৷ কতটুকু ন্যায় বিচার পায় স্বজন হারা পরিবারটি৷
2022-06-15

