আগরতলা, ৫ মে (হি. স.) : সরকারী ব্যবস্থাপনায় নির্মিয়মান জৈব সার কারখানা গুড়িয়ে দিলেন তিপরা মথার কর্মীরা। গোমতী জেলায় অমরপুরে মকরাইবাড়ি এলাকায় ওই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চরমে উঠেছে। ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের উপ মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য তথা তিপরা মথার নেতা অনিমেষ দেববর্মার দাবি, জোর করে ওই সার কারখানা স্থাপনের চেষ্টা হলে ত্রিপুরায় সিঙ্গুরের রূপ নেবে।
এদিন অনিমেষ বাবু বলেন, মকরাইবাড়ি এলাকায় জৈব সার কারখানা স্থাপনে স্থানীয় জনগণ শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন। কিন্ত, ত্রিপুরা সরকার বেপরোয়াভাবে মানুষের আপত্তি শুনতে চাইছে না। তাঁর কথায়, অমরপুর থেকে বর্জ্য এনে সার তৈরি করা হবে। তাতে, আশেপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হবে। তাই, স্থানীয় মানুষ ওই সার কারখানা স্থাপনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
তাঁর সাফ কথা, ওই কারখানার পার্শ্ববর্তী স্থানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারের বসবাস। জনবসতি নেই এমন স্থানে কারখানা স্থাপনে আমরা আপত্তি করব না। তাঁর বক্তব্য, ওই সার কারখানা নির্মাণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ আন্দোলন চলছে। আজকেও শান্তিপূর্ণভাবে কারখানা নির্মাণের বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়েছে। মিছিল সমাপ্তি হওয়ার পর কি ঘটছে সেবিষয়ে এখন অবগত হয়নি।
তাঁর দাবি, তিপরা মথাকে কলঙ্কিত করার জন্য সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনার বাস্তব রূপ দেওয়া হয়েছে হয়তো। তাঁর সাফ কথা, মকরাইবাড়ি এলাকায় জৈব সারের কারখানা স্থাপন হতে দেওয়া হবে না। ধাপে ধাপে তিপরা মথা আন্দোলন করবে। প্রয়োজনে ওই এলাকা সিঙ্গুরের রূপ নেবে। তাঁর খোলা চ্যালেঞ্জ, প্রশাসনের ক্ষমতা হলে ওই স্থানে সারের কারখানা নির্মাণ করে দেখাক।
এদিকে, মহকুমা পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মিছিল শেষে কিছু উত্তেজিত জনতা সার কারখানা নির্মাণস্থলে কিছু অস্থায়ী ঘর ভাংচুর করেছেন। এমনিতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তবে, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, আজ পুলিশের সামনেই তিপরা মথার কর্মীরা সমস্ত ভাংচুর চালিয়েছেন। জেলা পরিষদের সদস্যা ডলি রিয়াং কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, ওই এলাকায় সারের কারখানা কিছুতেই নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নির্মাণের চেষ্টা হলেই তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই জৈব সার কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। এখন নির্মাণ কাজ শুরু হতে চলেছে। কিন্ত, স্থানীয়দের আপত্তির জেরে ওই কারখানা নির্মাণ করা আদৌ সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।



















