ত্রিপুরায় আরও ভয়ংকর করোনা, ২৪ ঘন্টায় সক্রমিত ৫৭৯, একা পশ্চিম ত্রিপুরায় ৩৯৩

আগরতলা, ১১ জানুয়ারি (হি. স.) : ত্রিপুরায় করোনার লাগামহীন বৃদ্ধি। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৭৯ জোন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, শুধু পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ৩৯৩ জন করোনা আক্রান্তের খোজ পাওয়া গেছে। নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধির সাথেই সংক্রমণের সংখ্যাতেও বড়সড় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এইভাবে এগিয়ে গেলে, আবারও ত্রিপুরায় লকডাউন দেবে সরকার, এমনটাও অনুমান করা হচ্ছে। বর্তমানে সারা ত্রিপুরায় নৈশকালীন কারফিউ বলবৎ রয়েছে।


দেশ জুড়ে ওমিক্রনের ভয়াবহতার মাঝে ত্রিপুরায় সংক্রমণের হার মারাত্মক বৃদ্ধি চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিল। অবশ্য সুস্থতার খবরও পাওয়া যায়নি। অবশ্য, করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যুও হয়নি। তাতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩৩২ জন।


স্বাস্থ্য দফতরের মিডিয়া বুলেটিন অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআরে ১০৯৫ এবং রেপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ৭০৭১ জনকে নিয়ে মোট ৮১৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে, আরটি-পিসিআরে ৪২ জন এবং রেপিড অ্যান্টিজেনে ৫৩৭ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ মিলেছে। সব মিলে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৭৯ জনের শরীরে নতুন করে করোনা সংক্রমণের খোঁজ পাওয়া গেছে। দৈনিক সংক্রমণের হার একলাফে বেড়ে হয়েছে ৭.০৯ শতাংশ। গতকাল ১৭৬ জনের দেহে নতুন করে করোনার সংক্রমণের খোজ মিলেছিল এবং দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল ৪.৮৩ শতাংশ।
এদিকে, সুস্থতা কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছিল। কিন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাননি। তাতে বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত সক্রিয় রোগী রয়েছেন ১৩৩২ জন। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় এখন পর্যন্ত ৮৬৫১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮৪২৮৭ জন সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ হয়েছেন। রাজ্যে বর্তমানে করোনা-আক্রান্তের হার বেড়ে হয়েছে ৩.৯২ শতাংশ। তেমনি, সুস্থতার হার কমে হয়েছে ৯৭.৫০ শতাংশ। এদিকে ০.৯৬ শতাংশ হয়েছে মৃত্যুর হার। গত ২৪ ঘণ্টায় একজনেরও মৃত্যু না হওয়ায় এখন পর্যন্ত ত্রিপুরায় ৮২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য দফতরের মিডিয়া বুলেটিনে আরও জানা গিয়েছে, পশ্চিম জেলাই করোনা সংক্রমণে শীর্ষস্থান দখলে রেখেছে। শুধু তাই নয়, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে পশ্চিম জেলায় ৩৯৩ জন, উত্তর জেলায় ১৯ জন, সিপাহীজলা জেলায় ৩০ জন, দক্ষিণ জেলায় ৪৪ জন, ধলাই জেলায় ২১ জন, ঊনকোটি জেলায় ২৮ জন, খোয়াই জেলায় ১৩ জন এবং গোমতি জেলায় ৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।


ত্রিপুরায় করোনার তৃতীয় ঢেউ ক্রমেই বিধ্বংসী রূপ নিতে শুরু করেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত জুন মাসে দৈনিক সংক্রমণ ৫০০ অতিক্রম করেছিল। তারপর ধীরে ধীরে প্রকোপ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। কিন্ত, ইংরেজি বছরের শুরুতেই করোনা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। অন্তত, আগামী ১৫ দিন এভাবেই করোনা প্রকোপ ছড়িয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন। পরিস্থিতি যে গতিতে রূপ বদলাচ্ছে, হয়ত ত্রিপুরা সরকার লকডাউন দিতে বাধ্য হবে। কারণ, নৈশকালীন কারফিউ আদৌ কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারবে, সন্দেহ দেখা দিয়েছে।