করিমগঞ্জ (অসম), ১১ জানুয়ারি (হি.স.) : করিমগঞ্জ পুরসভায় সংগঠিত কথিত দুর্নীতির তদন্ত করতে আসছে তিন সদস্যেমর উচ্চস্তরীয় কমিটি। রাজ্যের পুরনিগমের প্রশাসনিক অধিকর্তা এবং মিশন অধিকর্তা এসবিএম (ইউ) এ সম্পর্কে এক নির্দেশ জারি করেছেন।
বিভাগীয় ডিরেক্টর অফিসের অ্যা সিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মহেন্দ্র পেগু, এমআইএস এক্সপার্ট দিলীপ বরুয়া ও এসডব্লিউএম এক্সপার্ট রবিউল আওয়াল হাজরিকা করিমগঞ্জ পুরসভায় সংগঠিত দুর্নীতির তদন্ত করবেন। বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশপত্র পাওয়ার ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পূর্ণ করে রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে। এই এক নির্দেশে বিষয়ে করিমগঞ্জ পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজেপি পরিচালিত পুরবোর্ডের দেড় বছরের সময়কালে দেদার দুর্নীতি হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনের লক্ষ লক্ষ টাকা, প্রজেক্ট জ্যোতি, পুরসভার গাড়ি ক্রয় সহ বিভিন্ন খাতে প্রাক্তন পুরনেত্রী অঞ্জনা রায় এবং উপ-পুরপতি জিশুকৃষ্ণ রায়ের নেতৃত্বে পুরসভায় দেদার দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে। এই অভিযোগ এনে বিধানসভার সদ্যসমাপ্ত শীতকালীন অধিবেশনে সরব হয়েছিলেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ।
তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি পরিচালিত পুরবোর্ডের তদনীন্তন পুরনেত্রী অঞ্জনা রায় এবং উপ-পুরপতি জিশুকৃষ্ণ রায়ের নেতৃত্বে লক্ষ লক্ষ টাকা পুরসভায় নয়ছয় হয়েছে। কিন্তু নিজ দলের সরকার থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যেবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। স্বচ্ছ ভারত অভিযান মিশনের লক্ষ লক্ষ টাকার তাঁরা হিসাব দিতে পারছে না। তাঁদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকার আইনানুগ কোনও ব্যদবস্থা নিচ্ছে না। বিধানসভায় এই অভিযোগও তুলিছিলেন বিধায়ক কমলাক্ষ।
করিমগঞ্জ পুরসভার লক্ষ লক্ষ টাকা জনৈক ব্যুক্তির নামে চেক ইস্যু করে গায়েব করা হয়েছে। পুরসভার একটি গাড়ি রয়েছে যাতে লেখা রয়েছে স্বচ্ছ ভারত অভিযান। ওই গাড়িটির চালক করিমগঞ্জের একটি গ্যা রেজে গাড়ির সার্ভিসিং করাতে গেলেই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে আসে। গাড়ি-চালক সার্ভিসিঙের বিল করিমগঞ্জ পুরসভার নামে বানিয়ে দেওয়ার কথা বলতেই আসল রহস্য প্রকাশ্যে আসে। সার্ভিসিং সেন্টারের কৰ্মীরা অনলাইনে ঘাঁটাঘাটি করলে দেখা যায়, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের নামে গাড়ির আসল মালিক জনৈক আবু তাহের। এই তথ্যও বিধানসভা অধিবেশনে তুলে ধরেছিলেন বিধায়ক কমলাক্ষ। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, প্রজেক্ট জ্যোতি সহ পুরসভার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ মোটা অঙ্কের অর্থ বিজেপি পরিচালিত পুরবোর্ডের দেড় বছরের সময়কালে নয়ছয় হয়েছে।
প্রজেক্ট জ্যোতির নামে প্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মোট ২০৪টি লাইটের মাধ্যে একটি লাইটও লাগানো হয়নি বলে বিধায়ক কমলাক্ষ বিধানসভায় অভিযোগ করেছিলেন। এছাড়া বিজেপি পরিচালিত পুরবোর্ডের সময়কালে সংগঠিত সকল দুর্নীতির উচ্চ পর্যায়ের তদন্তেরও দাবি জানিয়েছিলেন কমলাক্ষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় উচ্চ পদস্থ আধিকারিক করিমগঞ্জ পুরসভার তদন্তের নির্দেশ জারি করে তিন সদস্যের এক উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।

