ইমফল, ১০ জানুয়ারি (হি.স.) : মণিপুরে প্রাক-নির্বাচনী হিংসায় মৃত্যুবরণ করেছেন দুজন। তাঁদের একজন বিজেপি কার্যকর্তা এবং অন্যজন রাজ্যে নিয়োজিত ইন্ডিয়ান রিজার্ভ (আইআর) ব্যাটালিয়নের হাবিলদার। গতকাল রবিবার রাতে ইমফল পশ্চিমের ওয়াঙ্গোই বিধানসভা কেন্দ্রের সামুরউ এলাকায় সংগঠিত হিংসায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন আজ সকালে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে আজ ভোরে আততায়ীর গুলিতে হত দলীয় কার্যকর্তা এবং পুলিশ কর্মীর বাড়িতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নংথমবাম বীরেন সিংহ। শোকাহত পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করে তিনি তাঁর গভীর সমবেদনা জানিয়ে শীঘ্রই দুষ্কৃতীদের ধরে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন। এদিকে গুলি হামলার প্রতিবাদে এবং দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিজেপির কার্যকর্তা এবং সমর্থকরা বিক্ষোভ-প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।
নিহতদের একজন আবুজাম জন (৫৮) এবং অন্যজনকে আবুজাম তোম্বা ওরফে শশীকান্ত (৩৭) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, মৃত আবুজাম জন ওয়াঙ্গোইয়ের বিধায়ক তথা কৃষিমন্ত্রী ওখরাম লুখইয়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এছাড়া আবুজাম তোম্বা ছিলেন ইন্ডিয়ান রিজার্ভ (আইআর) ব্যাটালিয়নের হাবিলদার।
সূত্রের খবর, ঘটনাটি রবিবার রাতে সংঘটিত হয়েছে। রাত প্রায় ১০টা, একদল দুষ্কৃতী সামুরউয়ে অবস্থিত মাচু সিনেমা হল সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন আবুজাম জন এবং আবুজাম তোম্বা। তখন আচমকা আততায়ীরা তাঁদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে পৃথক দুটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আবুজাম জনকে অ্যাডভান্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আবুজাম জনের বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। এদিকে রাজ্য পুলিশের হাবিলদার আবুজাম তোম্বা (শশীকান্ত)-কে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে। সেখানে আজ সোমবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তোম্বা।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ সোমবার সকালে নিহতদের শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের প্রতি তাঁর গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত সরকার চুপ থাকবে না। ইতিমধ্যে ঘটনা সম্পর্কে একটি মামলা নথিভুক্ত করে দুর্বৃত্তদের ধরতে তদন্ত-অভিযান চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে দুটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মণিপুরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে দিয়েছেন। অধিকাংশ স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চেলে গেলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
সংগঠিত বন্দুক হামলার কারণ এখনও নিশ্চিত নয় রাজ্য পুলিশ। তবে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএসি)ও গঠন করা হয়েছে। কমিটি সোমবার সকাল ১০টা থেকে শুরু করেছে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তথ্য বের করতে। হওয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনও তথ্য পাওয়া না গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

