বিধানসভার মৰ্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিধায়কদের প্রতি আহ্বান লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার

‘বিশ্বের বহু দেশ ভারতের সংবিধানকে অনুকরণ করে

গুয়াহাটি, ২৪ ডিসেম্বর (হি.স.) : বিধানসভার মৰ্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিধায়কদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। আজ শুক্রবার অসম বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিন ঐতিহাসিক ক্ষণ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এই প্রথম রাজ্য বিধানসভায় লোকসভার কোনও অধ্যক্ষ পদার্পণ করে তাঁর বহুমূল্য বক্তব্য পেশ করেছেন।

লোকসভার অধ্যক্ষকে গাৰ্ড অব অনার জানিয়ে হাউসে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারি, মুখ্যমন্ত্ৰী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা, বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া, অসম গণ পরিষদের সভাপতি অতুল বরা, এআইইউডিএফ বিধায়ক হাফিজ বশির আহমেদ কাসিমী, ইউপিপিএল-এর বিধায়ক গোবিন্দ বসুমতারি, বিপিএফ বিধায়ক দুৰ্গাদাস বড়ো। এর পর লোকসভা এবং বিধানসভা, দুই অধ্যক্ষ পাশাপাশি তাঁদের নির্দিষ্ট আসনে বসেন। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারির স্বাগত ভাষণের পর এক এক করে ভাষণ দেন শাসকদলের নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা, বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া, অগপ, এআইইউডিএফ, ইউপিপিএল এবং বিপিএফ-এর পরিষদীয় নেতারা। মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা অসম বিধানসভার প্রাচীন এবং বর্তমান ইতিহাস তুলে ধরে ভাষণ দিয়েছেন।

সদনে প্রদত্ত ভাষণে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা বলেন, অসমের পৃথক এক ঐতিহ্য, শৌর্যবীর্যের ইতিহাস আছে। ব্ৰহ্মপুত্ৰ নদ তীরবর্তী এই রাজ্য নানা ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ। কামাখ্যা মন্দির সহ বিভিন্ন মঠ-মন্দির, নানা ঐতিহ্যের ক্ষেত্র বা উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে হোক, অসম দেশের অন্যতম এক প্ৰধান রাজ্য। বিগতদিনে অসম বিধানসভার জনপ্রতিনিধি রাজ্যের মহান নেতৃবর্গ, মনিষীগণ এবং তাঁদের কৰ্মরাজি শ্ৰদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ওম বিড়লা। তিনি ভারতরত্ন গোপীনাথ বরদলৈ, ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকা থেকে শুরু করে অসম তথা দেশের জন্য বিশেষ অবদানকারী মহান ব্যক্তবর্গকে শ্ৰদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। এছাড়া উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের জন্য বহু উন্নয়নমূলক কাজ করে নজির সৃষ্টিকারী দেশের প্ৰাক্তন প্ৰধানমন্ত্ৰী ভারতরত্ন প্ৰয়াত অটলবিহারী বাজপেয়ীর নানা পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তাঁর ভাষণে টেনে এনেছেন অধ্যক্ষ বিড়লা।

সংবিধান প্রণেতা ড. বিআর আম্বেদকরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্ৰদত্ত ভাষণে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশ ভারতের সংবিধানকে অনুকরণ করছে। প্ৰাসঙ্গিক বক্তব্যে বিধানসভার মৰ্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিধায়কদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, বিধানসভা জনতার কল্যাণকাৰ্যে নিয়োজিত হওয়ার একটি অতি সুন্দর মঞ্চ। গণতন্ত্রকে সম্মান করা প্রত্যেক মন্ত্রী এবং বিধায়কের কৰ্তব্য। বিধানসভার সদস্যরা জনতার প্রতিনিধি। বিধানসভায় জনতার সমস্যাবলি তুলে ধরা সদস্যদের কাজ। বলেন, জনতার সমস্যাবলি যাতে সমাধান হয় তার প্রতি যত্নশীল হওয়াও জনপ্রতিনিধিদের কাজ। তাই, শাসক-বিরোধী, সব বিধায়ককে বিধানসভায় নিজ নিজ এলাকা তথা সমগ্র রাজ্যের সমস্যা তুলে ধরা উচিত। আলোচনা-চর্চার মাধ্যমে জনতার সমস্যাবলির সমাধান সূত্র বের করতে হয়।লোকসভার অধ্যক্ষ বলেন, ভারতবৰ্ষ হচ্ছে গণতন্ত্ৰের জননী। ভাষণ দিতে গিয়ে আক্ষেপ করে বিড়লা বলেন, আজকাল হাউসে শালীনতা হ্ৰাস পেতে বসেছে। তা ঠিক নয়। তাই তিনি সর্বাবস্থায় সদনের মৰ্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সদনের গরিমা, মৰ্যাদা যাতে ভঙ্গ না হয়, তার প্রতি আন্তরিকতার সঙ্গে যত্নশীল হওয়া দরকার জনপ্রতিনিধিদের। শাসক-বিরোধীদের সুস্থ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বলে চৰ্চা করা উচিত। আইন প্ৰণয়নের ক্ষেত্ৰে বিরোধীদের এর ওপর চৰ্চা করা, পরামৰ্শ প্ৰদান কিংবা বিরোধ করতে পারেন। কিন্তু নির্ধারিত পদ্ধতি ভঙ্গ করে সদনের কাজকর্মে বাধা দেওয়া একেবারেই উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।পাশাপাশি বলেন, রাজ্যে বিধানসভা হল গণতন্ত্ৰের সৰ্বোচ্চ মন্দির। তাই এখানে যাতে উৎকৃষ্ট চৰ্চা হয়, তার প্রতি সকলের নজর রাখা কর্তব্য। কেননা, এখানে যাঁদের নিৰ্বাচিত করে জনসাধারণ পাঠান, তাঁদের লক্ষ্য কিন্তু এক, রাজ্যের বিকাশ তথা জনতার উন্নয়ন। বলেন, কারোর বিচারধারা বা ইস্তাহার পৃথক হতে পারে, কিন্তু সকলের লক্ষ্য এক হতে হবে, তা হচ্ছে রাজ্য তথা জনসাধারণের উন্নয়ন। এছাড়া সংসদীয় সমিতিগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কেও প্রদত্ত ভাষণে বহু কথা শুনিয়েছেন তিনি। বলেন, সংসদীয় সমিতির পরামৰ্শাবলি সরকারকে মানা উচিত। তখনই মজবুত হবে গণতন্ত্ৰ।

প্রসঙ্গত, লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা আজ বিধানসভার সেন্ট্ৰাল হল-এ অসম লেজিসল্যাটিভ ডিজিটাল টিভির শুভারম্ভ করেছেন। এর পর তিনি বিধানসভার সব সদস্যের সঙ্গে এক ফটো সেশনে অংশগ্ৰহণ করেছেন।