কুন্দারা (কোল্লাম), ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কেরলের সমবায় ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী এম. লিজুকে নয়াদিল্লিতে এসে কেন্দ্রের সঙ্গে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার কুন্দারায় এক বৃহৎ মহিলা সমবায় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মহিলা-নেতৃত্বাধীন সমবায়গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
শাহ বলেন, সমবায় আন্দোলনে কেরলের দীর্ঘ ও শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। কৃষি থেকে মৎস্য—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগানো উচিত। অনুষ্ঠানের শুরুতে মালয়ালম বলতে না পারার কথা উল্লেখ করে তিনি উপস্থিত সকলকে সম্মান জানান।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই পৃথক সমবায় মন্ত্রকের দাবি ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের আমলেই সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সমবায় ঐতিহ্যের কারণে কেন্দ্রের বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে কেরলের বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।
শাহ জানান, কেরলে বর্তমানে ২৩ হাজারেরও বেশি সমবায় সংস্থা কাজ করছে। রাজ্যের সমবায় মন্ত্রীকে দিল্লিতে এসে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে সমবায় ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
মহিলা উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এনসিসিএফ) এবং ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ন্যাফেড)-এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শাহ। তিনি বলেন, এনসিসিএফ তাদের খুচরো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে এবং ‘বনিতা শি মার্টস’-এর মাধ্যমে মহিলারা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
তিনি বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলি শক্তিশালী বাজার সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কেরলে ‘ভারত আটা’ ও ‘ভারত রাইস’ পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। আত্মনির্ভর ভারত কর্মসূচির আওতায় মহিলাদের জন্য ডালজাতীয় ফসলের বীজ সরবরাহের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে শিশুদের হাতে বৃত্তিও তুলে দেন শাহ। তাঁর মতে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে সমবায় আন্দোলন। ন্যাফেড ও এনসিসিএফ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মহিলাদের জন্য মোদি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শাহ। এর মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ২৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো এবং মুসলিম মহিলা ও হজ সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কেরলের দীর্ঘ উপকূলরেখার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শাহ বলেন, মৎস্য ক্ষেত্রে রাজ্যের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উদীয়মান ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতি সমবায় ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। মৎস্য ক্ষেত্রকে আরও বেশি করে সমবায় কাঠামোর আওতায় আনার সম্ভাবনা নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক করার জন্য রাজ্যের সমবায় মন্ত্রীকে আহ্বান জানান তিনি।
জৈব কৃষির প্রোটোকল এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ গড়ে তুলতেও রাজ্যগুলিকে কেন্দ্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শনিবার দুপুরে তিরুবনন্তপুরমে পৌঁছে হেলিকপ্টারে কোল্লামে যান অমিত শাহ। সফরে এটাই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি। ‘সহকার সে সমৃদ্ধি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল সমবায় ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপি, রাজ্যের সমবায় ও আবগারি মন্ত্রী শিজু, পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী পি.সি. বিষ্ণুনাথ, রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর এবং কোল্লামের লোকসভা সদস্য এন.কে. প্রেমচন্দ্রন উপস্থিত ছিলেন।
























