পাটনা, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বিরোধী নেতাদের নিশানা করে কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী (এমএসএমই) জিতন রাম মাঝি বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করা উচিত নয়। তাঁর মতে, সাংবিধানিক ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলোচনার সময় ভিন্নমত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
মাঝি বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা যাঁরা করছেন, তাঁরা অনভিজ্ঞ। তিনি উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রিসভার বৈঠক, নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী এবং বিচারপতিদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন।
তাঁর এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি ১০ মাসে একাধিক বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও ভিন্নমত অভ্যন্তরীণ আলোচনার স্বাভাবিক অংশ এবং শেষ পর্যন্ত কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
মাঝি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তির মতামত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হবে, এমন নয়। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণ করে।
এর পাশাপাশি লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনার সময় তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি উপজাতি (এসটি)-র সাংসদদের পর্যাপ্ত বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন মাঝি।
গত ৫ আগস্ট তাঁর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এনডিএ সাংসদদের গ্রুপ ডায়ালগ বৈঠকে মধ্যপ্রদেশের খারগোন লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ গজেন্দ্র সিং প্যাটেল বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানান মাঝি।
শনিবার গয়ায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মাঝি ২০২৪-২০২৯ মেয়াদে এনডিএ-র সংসদীয় গোষ্ঠীর কাজের ধরন ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, প্রায় ১৪-১৫ জন সাংসদকে নিয়ে গঠিত বিভিন্ন দল কোনও সংসদীয় অধিবেশনের শুরুতে বা শেষে কোনও মন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠকে বসে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
মাঝি জানান, এই বৈঠকগুলিতে সাংসদরা তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়া বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন। কোনও সাংসদ কোনও বিষয় উত্থাপন করলে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
মাঝির দাবি, গজেন্দ্র সিং প্যাটেল বিশেষভাবে অভিযোগ করেছিলেন যে গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনার সময় এসসি ও এসটি সম্প্রদায়ের সাংসদরা পর্যাপ্ত বক্তব্য রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, দলিত ও মহাদলিত সম্প্রদায়ের সাংসদরা তুলনামূলকভাবে কম সময় বক্তব্য রাখার সুযোগ পাচ্ছেন—এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। সেই কারণেই তিনি স্পিকারকে চিঠি দেন। যদিও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে চিঠি লেখা উচিত ছিল, তিনি সরাসরি স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন বলেও জানান। একই সঙ্গে বিষয়টির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয় বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
মাঝি বলেন, এটি কোনও ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সাংসদদের উত্থাপিত একটি সমস্যা। গ্রুপের নেতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেই উদ্বেগ পৌঁছে দেওয়া তাঁর দায়িত্ব। সেই কারণেই তিনি লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন।



















