ওয়ানাড, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুললেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ওয়ানাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বেআইনি হস্তক্ষেপ প্রমাণিত হলে সিইসির বিরুদ্ধে বিচার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
শনিবার ওয়ানাড সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রিয়াঙ্কা বলেন, এই ইস্যুতে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট ঐক্যবদ্ধ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে চলমান পরিস্থিতিকে তিনি সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আক্রমণ বলে অভিযোগ করেন।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক দাবি হল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। তাঁর দাবি, সিইসিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘনের সুযোগ দেওয়া প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার হওয়া উচিত।
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে একাধিকবার আপত্তি তুলেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ বিভাজনের অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, এসআইআর-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল।
প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, বিজেপি সিইসি এবং দলের নেতৃত্বকে রক্ষা করছে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি যদি বেআইনি বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা গণতন্ত্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. বেণুগোপালও সিইসির বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি সিইসির বিরুদ্ধে বৃহৎ প্রতিবাদ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর বক্তব্যে কেরল ক্যাডারের আধিকারিক হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা ছিল। গণতন্ত্র বিপন্ন হলে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বেণুগোপাল। তাঁর দাবি, এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মানুষের কাছে জবাব দেওয়া উচিত। কেরলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁর কাছেও জবাব দাবি করেন বেণুগোপাল।
এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ আলোচনার সময় বিভিন্ন মত ও পর্যবেক্ষণ উঠে আসা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, বিষয়টিকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক মতপার্থক্য হিসেবে দেখা যায় না। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
–



















