নয়াদিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভজন ক্লাবিং’ অনুষ্ঠানে যোগদানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতারা সরকারি অনুষ্ঠানে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সরকারের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাল্টা বিজেপি ও শিবসেনা অভিযোগ করেছে, কংগ্রেস ভারতের ভক্তিমূলক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অপমান করছে।
ভারতীয় জনসংঘের নেতা পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার পার্কে আয়োজিত ‘ভজন ক্লাবিং’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ আইএএনএসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন রাহুল গান্ধীর কাজের ধরন নকল করার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন, অন্যদিকে রাহুল গান্ধী মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ করেন, তাঁদের কথা শোনেন এবং প্রশ্নের উত্তর দেন।
কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা খুশি করতে পারেন, তবে কংগ্রেসের উদ্বেগ দেশের বিষয় নিয়ে।
কংগ্রেস সাংসদ কর্মবীর সিং বৌদ্ধ বলেন, সরকারের কাজ কোনও ধর্মকে প্রচার করা নয়। তাঁর দাবি, এটি অসাংবিধানিক এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির। ভারত বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের দেশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বা কোনও নেতার একতরফাভাবে একটি ধর্মকে প্রচার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে শিবসেনার মুখপাত্র শায়না এনসি অনুষ্ঠানের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর মতে, এটিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে সাংস্কৃতিক ও সুস্থতা-কেন্দ্রিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, চাকরি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে যুবসমাজের চাপের মধ্যে ভজন মানসিক শান্তির একটি মাধ্যম হতে পারে।
বিজেপি সাংসদ তরুণ চুঘ কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, ভারতের ভজন, প্রতিষ্ঠান, সনাতন ও সংস্কৃতিকে অপমান করা কংগ্রেসের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের যুবসমাজ আধ্যাত্মিকতার দিকে এগোচ্ছে এবং ‘ভজন ক্লাবিং’-এর মতো অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভক্তিমূলক গান শুনতে, হাততালি দিতে এবং খঞ্জনি বাজাতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর সময় তিনি উপস্থিত মানুষের দিকে হাত নাড়েন।



















