নিউইয়র্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): স্বল্পোন্নত দেশগুলির সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও দৃঢ় অংশীদারিত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন বিদেশ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক সচিব সুধাকর দলেলা। নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে স্বল্পোন্নত দেশগুলির বার্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি অংশ নেন।
বৈঠকে দলেলা স্বল্পোন্নত দেশগুলির টেকসই ও স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেন।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের আইটিইসি কর্মসূচি, স্বল্পসুদের ঋণ, অনুদান সহায়তা এবং ইন্ডিয়া-ইউএন ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ ফান্ডের মাধ্যমে চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্য দিয়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলির সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘে ‘ডেলিভারিং দ্য সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: অ্যান আসিয়ান অ্যাপ্রোচ ফর ইনক্লুসিভ ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক আলোচনাতেও বক্তব্য রাখেন দলেলা। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, জাপান এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দফতর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তব্যে ভারতের উন্নততর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঝুঁকিভিত্তিক পরিকাঠামো, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি, কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবিলায় ভারত-আসিয়ান সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন তিনি। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় আগাম সতর্কবার্তাকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তরের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন দলেলা।
তিনি জানান, ২০৩০ সালে চতুর্থ রাষ্ট্রসঙ্ঘ বিশ্ব দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সম্মেলন আয়োজনের জন্য ভারত প্রস্তুত।
বৈঠকে থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং ফিলিপাইনের বিদেশ বিষয়ক সচিব মারিয়া থেরেসা পি. লাজারো-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘে জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের অংশ হিসেবে ‘সলিউশনস ডায়ালগ অন ফাইন্যান্সিং অ্যাডাপ্টেশন’-এ অংশ নেন দলেলা।
সেখানে তিনি ভারতের জীবনরক্ষাকারী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জাতীয় ও রাজ্যস্তরের পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজনকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ তুলে ধরেন। দেশগুলির নেতৃত্বাধীন অভিযোজন কর্মসূচির জন্য পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোজনের অর্থায়ন যেন ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং তাদের ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে না দেয়।



















